উত্তরবঙ্গের শিল্প, বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র শিলিগুড়িকে এবার বৃহত্তর মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হল রাজ্যের বিজেপি সরকার। শুধু শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান এলাকা নয়, সংলগ্ন আরও বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে শহরের প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছে শাসকদল। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এবং মাটিগাড়া-শিবমন্দির-বাগডোগরাকে শিলিগুড়ি পুরনিগমের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর ফলে আলাদা দুটি নতুন পুরসভা তৈরির যে প্রাথমিক ভাবনা ছিল, তা বদলে গিয়ে শিলিগুড়িকে একটি বৃহত্তর নগরাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক উত্তরবঙ্গ সফরের পর এই প্রস্তাব সামনে আসায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

শিলিগুড়িকে মহানগর হিসেবে গড়ে তোলার এই পরিকল্পনার পিছনে রয়েছে শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং পরিকাঠামোগত প্রয়োজন। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্য, পরিবহণ এবং পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই শহরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের একাংশ।
প্রাথমিকভাবে নতুন সরকার পরিকল্পনা করেছিল, শিলিগুড়ি পুরনিগমের পাশাপাশি শিবমন্দির এলাকায় একটি নতুন পুরসভা এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় আরও একটি নতুন পুরসভা তৈরি করা হবে। কিন্তু এবার সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। আলাদা দুটি পুরসভা তৈরি না করে ওই এলাকাগুলিকে সরাসরি শিলিগুড়ি পুরনিগমের আওতায় নিয়ে আসার পক্ষেই সওয়াল করছে বিজেপি।
এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অরুণ মণ্ডল জানিয়েছেন, এলাকার মানুষ বিজেপিকে বিপুল সমর্থন দিয়েছেন। এবার উন্নয়নের মাধ্যমে তাঁদের সেই সমর্থনের প্রতিদান দেওয়ার পালা। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি শিলিগুড়ি পুরনিগমে গিয়ে জানিয়েছেন, বর্তমান পুর এলাকার মধ্যে নতুন বাড়ি তৈরির মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। কলকাতার পর শিলিগুড়িই রাজ্যের অন্যতম বৃহত্তম পুরনিগম। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সংলগ্ন অঞ্চলগুলিকে পুরনিগমের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
অরুণ মণ্ডলের মতে, আলাদা দুটি পুরসভা তৈরি করলে প্রশাসনিক কাঠামো বিভক্ত হয়ে থাকবে। তার পরিবর্তে বৃহত্তর শিলিগুড়ি পুরনিগম তৈরি করা গেলে শহরের সামগ্রিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন আরও সুসংহতভাবে করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে বৃহত্তর প্রশাসনিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
{{/usCountry}}অরুণ মণ্ডলের মতে, আলাদা দুটি পুরসভা তৈরি করলে প্রশাসনিক কাঠামো বিভক্ত হয়ে থাকবে। তার পরিবর্তে বৃহত্তর শিলিগুড়ি পুরনিগম তৈরি করা গেলে শহরের সামগ্রিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন আরও সুসংহতভাবে করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে বৃহত্তর প্রশাসনিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
{{/usCountry}}তবে বিজেপির এই নতুন প্রস্তাব নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল নেতা গৌতম দেব জানিয়েছেন, আগে সরকার দুটি নতুন পুরসভা তৈরির কথা বলেছিল। এখন সেই নীতিতে পরিবর্তন এলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। তবে নতুন প্রস্তাব সম্পর্কে তাঁদের কাছে এখনও বিস্তারিত তথ্য নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্য, শিলিগুড়ির বর্তমান প্রশাসনিক সীমানার বাইরে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এবং মাটিগাড়া-শিবমন্দির-বাগডোগরা এলাকায় দ্রুত জনবসতি ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামো বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলগুলিকে এক ছাতার তলায় আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের নগরায়ণের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে এখনই শিলিগুড়ি মহানগর হয়ে যাচ্ছে, এমন কোনও চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা হয়নি। এটি আপাতত বিজেপির জেলা নেতৃত্বের তরফে রাজ্য সরকারের কাছে দেওয়া প্রস্তাব। সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, কোন কোন এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং কবে থেকে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।