Death and Birth Certificate Fraud: জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিক জায়গায় নিয়ম বহির্ভূত বা ভুয়ো নথির ভিত্তিতে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন এই অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েতে অভিযান চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করছে তদন্তকারী দল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বীরভূমের সিউড়ি, রামপুরহাট ও দুবরাজপুরে একাধিক দফতরে তল্লাশি চালানো হয়েছে। পাশাপাশি কোচবিহারের বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পুরসভাতেও অভিযান চলছে। দুর্গাপুর-সহ রাজ্যের আরও কয়েকটি এলাকাতেও তদন্তকারীরা পৌঁছে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নথি পরীক্ষা করছেন।
তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, কোথাও ভুয়ো নথির ভিত্তিতে জন্ম বা মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু হয়েছে কি না, কিংবা সরকারি নিয়ম না মেনে কোনও ব্যক্তিকে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। এই কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্টার, আবেদনপত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি নিজেদের হেফাজতে নিচ্ছে পুলিশ। পরে সেই নথিগুলি থানায় নিয়ে গিয়ে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হবে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় বিজেপি অভিযোগ করেছিল, বেআইনিভাবে ইস্যু হওয়া জন্ম শংসাপত্রের ভিত্তিতেই বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, এবার সেই বিষয়টি নিয়েই তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।
অভিযানের সময় তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট পুরসভা ও পঞ্চায়েতের কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলছেন। যাঁরা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, আবেদন যাচাইয়ের সময় কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল এবং কোনও ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না।
{{/usCountry}}অভিযানের সময় তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট পুরসভা ও পঞ্চায়েতের কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলছেন। যাঁরা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, আবেদন যাচাইয়ের সময় কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল এবং কোনও ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না।
{{/usCountry}}এদিকে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যুর নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি রুখতেই সম্প্রতি ‘রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থ অ্যান্ড ডেথ অ্যামেন্ডমেন্ট রুল, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এই সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। নতুন নিয়মে আবেদন যাচাই, নথি সংরক্ষণ এবং শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও ধরনের জালিয়াতি বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হল জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যুর পুরো প্রক্রিয়ায় কোনও দুর্নীতি বা বেআইনি কাজ হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা। যদি তদন্তে অনিয়ম বা জালিয়াতির প্রমাণ মেলে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যজুড়ে এই অভিযান আগামী কয়েকদিন আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।