বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পরিষদীয় দলের তরফে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া সমর্থনপত্রে কার সই কে করেছেন, সেই প্রশ্ন ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে সিআইডি। ফলে দলের ভিতরে ফাটল এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের জল্পনাও আরও জোরালো হয়েছে।

সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে যে নথি জমা দেওয়া হয়েছিল, সেই নথির কয়েকটি স্বাক্ষর নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। এরপর বিধানসভার তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তকারীরা একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের স্বাক্ষর যাচাই করছেন এবং নমুনা সংগ্রহ করছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতে যান সিআইডি আধিকারিকরা। পরে শুক্রবার সকালে বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতেও পৌঁছয় তদন্তকারী দল। বাহারুল ইসলাম তদন্তকারীদের জানান, ৬ মে তিনি কোনও বৈঠকে যোগ দেননি এবং যে স্বাক্ষর তাঁকে দেখানো হয়েছে, সেটি তাঁর নয়। তিনি দাবি করেন, ভোট-পরবর্তী হিংসার কারণে ওই দিন তিনি নিজের বাড়িতেই ছিলেন।
অন্যদিকে, তাপস মাইতি সিআইডিকে জানিয়েছেন যে সংশ্লিষ্ট স্বাক্ষরটি তাঁরই। আবার চন্দ্রনাথ সিনহার ক্ষেত্রে দেখা যায়, শপথ গ্রহণের সময় তিনি বাংলায় স্বাক্ষর করেছিলেন, অথচ বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সমর্থনপত্রে তাঁর নামে ইংরেজিতে সই রয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। সেই কারণেই তাঁর স্বাক্ষরের নমুনা সংগ্রহ করে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কাউকে জোর করে সই করানো হয়নি। তবে কে স্বাক্ষর করেছে, তা তিনি জানেন না বলেও মন্তব্য করেছেন। বালিগঞ্জের বিধায়ক বলেন, 'আমি কোনও বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে। আমরা কাউকে দিয়ে জোর করে সই করাইনি। কে লিখেছে জানি না। তবে বাহারুল ওই সইটি দেখে বলেছেন ওটা ওঁর সই নয়।'
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে প্রশ্ন ও সন্দেহ আরও বাড়ছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর বিতর্ক সামনে আসায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তদন্ত যত এগোবে, এই বিতর্ক ততই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
{{/usCountry}}ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে প্রশ্ন ও সন্দেহ আরও বাড়ছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর বিতর্ক সামনে আসায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তদন্ত যত এগোবে, এই বিতর্ক ততই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
{{/usCountry}}