Special Bike Ride in Bengal: ‘চোখে নয়, হৃদয়ে দেখা’ - সেই লক্ষ্য নিয়েই সাঁতরাগাছি থেকে কোলাঘাট 'স্পেশাল' মানুষদের নিয়ে বাইক রাইডের আয়োজন করা হল। ৩০ জন বাইকারের সঙ্গে সেই রাইডে অংশ নেন আটজন দৃষ্টিহীন মানুষ। উদ্যোক্তা 'বিয়ন্ড সাইট' এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বাইকার কমিউনিটি 'যাযাবর বাঙালি'-র তরফে আয়োজিত সেই রাইড দৃষ্টিহীন মানুষদের কাছে যেন একটুকরো স্বপ্নের দুনিয়া ছিল। উদ্যোক্তাদের তরফে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার এরকম বাইক রাইডের আয়োজন করা হল।
বাইক রাইডে ছিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কও

সেই রাইডে হাজির ছিলেন ভারতের ব্লাইন্ড ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক চন্দন মাইতি। তিনি বলেছেন, 'ক্রিকেট আমায় দেশের জার্সি পরার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু আজকের দিনটা আমায় আরও একটা পরিচয় দিল— আমি একজন ভ্রমণসঙ্গী। বাতাসের গতি, ইঞ্জিনের কম্পন, রাস্তার বাঁক...চোখে দেখতে পাইনি। কিন্তু হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছি। জীবনে এই দিনটা কোনওদিন ভুলব না।'
‘কারও দয়া নিয়ে নয়, নিজের অধিকার নিয়ে চলেছি’
কোলাঘাট পৌঁছে তাঁর চোখে জল চলে আসে প্রসেনজিতের। একরাশ তৃপ্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে সবাই বলত, আমার পৃথিবী খুব ছোট। আজ বুঝলাম, আমার পৃথিবীও এই দীর্ঘ রাস্তার মতোই বড়। বাইকে বসে মনে হচ্ছিল আমি কারও দয়া নিয়ে নয়, নিজের অধিকার নিয়ে চলেছি।’ আবার সৌম্যজিৎ বসু বলেছেন, ‘লাদাখ, অরুণাচল, স্পিতি— কত জায়গায় গিয়েছি। কিন্তু এত তৃপ্তি কোনও রাইড আমাদের দেয়নি। এই প্রথম বুঝলাম, একটি বাইক শুধু পাহাড়ে ওঠার জন্য নয়, মানুষের জীবনে আলো নিয়ে আসারও মাধ্যম হতে পারে।’
‘আনন্দও একটি অধিকার’, আগামিদিনে আরও রাইডের পরিকল্পনা
আর পুরো কর্মসূচি নিয়ে বিয়ন্ড সাইটের প্রতিষ্ঠাতা বাপন মোজাফফর আহমেদ বলেন, ‘আমরা দৃষ্টিহীন মানুষদের জন্য অনেক কর্মসূচি করি— লাঠি দিই, বই দিই, প্রশিক্ষণ দিই। আমি বিশ্বাস করি, আনন্দও একটি অধিকার। স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করার অনুভূতিও একটি অধিকার। আজ আমরা সেই অধিকারটুকু ভাগ করে নিতে পেরেছি।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন শুধু এই একটি রাইড নয়। আমি চাই, একদিন এমন সমাজ গড়ে উঠুক যেখানে কোনও দৃষ্টিহীন মানুষকে বলতে না হয়— আমি পারব না। আজকের দিনটা প্রমাণ করেছে, সীমাবদ্ধতা চোখে নয়, সমাজের চিন্তায়।’
{{/usCountry}}আর পুরো কর্মসূচি নিয়ে বিয়ন্ড সাইটের প্রতিষ্ঠাতা বাপন মোজাফফর আহমেদ বলেন, ‘আমরা দৃষ্টিহীন মানুষদের জন্য অনেক কর্মসূচি করি— লাঠি দিই, বই দিই, প্রশিক্ষণ দিই। আমি বিশ্বাস করি, আনন্দও একটি অধিকার। স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করার অনুভূতিও একটি অধিকার। আজ আমরা সেই অধিকারটুকু ভাগ করে নিতে পেরেছি।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন শুধু এই একটি রাইড নয়। আমি চাই, একদিন এমন সমাজ গড়ে উঠুক যেখানে কোনও দৃষ্টিহীন মানুষকে বলতে না হয়— আমি পারব না। আজকের দিনটা প্রমাণ করেছে, সীমাবদ্ধতা চোখে নয়, সমাজের চিন্তায়।’
{{/usCountry}}একইসুরে সহ-প্রতিষ্ঠাতা সুমিত চৌধুরী বলেন, 'এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সাফল্য কিলোমিটারে মাপা যাবে না। আজ আটজন দৃষ্টিহীন বন্ধু এবং ৩০ জন রাইডার একে অপরের জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছেন। এই বন্ধুত্বই আমাদের আসল প্রাপ্তি। আমরা চাই এই উদ্যোগ আগামিদিনে বাংলার প্রতিটি জেলায় পৌঁছে যাক।'