মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভিড়ের অতিরিক্ত চাপে তৈরি হলো অনভিপ্রেত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। ঠাকুর দেখার উদ্দেশ্যে মণ্ডপের বাইরে হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড় জমলে হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কিতে পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি (Stampede-like situation) তৈরি হয়। আহতদের দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৭ জনের। আহতদের মধ্যে আরও ১৫ জনের সংখ্যা আশঙ্কা। শরীরে রয়েছে একাধিক ক্ষত। জানাচ্ছে, হাসপাতাল।

কীভাবে ঘটল ঘটনাটি?
প্রবল জনস্রোত ও ধাক্কাধাক্কি: শুক্রবার থেকেই চোরবাগানের মণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছিল। সপ্তমীর সন্ধ্যায় বৃষ্টির আবহের মাঝেই আচমকা মণ্ডপের প্রবেশপথে ভিড়ের চাপ মারাত্মক বেড়ে যায়।
অসুস্থ ও আহত একাধিক দর্শনার্থী: হুড়োহুড়ির জেরে ভিড়ের মধ্যে বহু দর্শনার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ধাক্কাধাক্কিতে কয়েকজন চোট পান। দ্রুত অসুস্থ ও আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মণ্ডপের অংশ ভেঙে পড়ার শঙ্কা/বিশৃঙ্খলা: ভিড়ের প্রচণ্ড চাপে মণ্ডপ প্রাঙ্গণের সুরক্ষাবেষ্টনী বা একটা অংশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে ভিড় আরও বেসামাল হয়ে পড়ে।
পুলিশের কড়া পদক্ষেপ:
ঘটনার আকস্মিকতায় পরিস্থিতি আরও যাতে জটিল না হয়ে ওঠে, তার জন্য কলকাতা পুলিশ তড়িঘড়ি উদ্যোগ নেয়। চোরবাগান সর্বজনীনের অভিমুখে যাওয়া সমস্ত রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে দর্শনার্থীদের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং সাময়িকভাবে পুজো মণ্ডপে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সুরক্ষাব্যবস্থা পুনরায় খতিয়ে দেখে দর্শনার্থী প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।