Public Holiday: দূর্গাপুজোর আগেই পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের জন্য এল বড় খবর। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর করম পুজো (Karam Puja) উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বুধবার অর্থ দফতরের অডিট শাখা থেকে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালে করম পুজো ২২ সেপ্টেম্বর পালিত হবে। সেই কারণে ওই দিন রাজ্য সরকারি কার্যালয়, বিধিবদ্ধ সংস্থা, বোর্ড, কর্পোরেশন, রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য কার্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে। পাশাপাশি, রাজ্যের চা-বাগানে কর্মরত আদিবাসী সম্প্রদায়ের কর্মীদের জন্যও এই দিনটি ছুটির দিন হিসেবে গণ্য হবে। রাজ্যপালের নির্দেশক্রমে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। মূলত রাজ্যের আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে এবং তাঁদের প্রধান এই সামাজিক-ধর্মীয় উৎসবে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ছুটি কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে?
সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে, ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার নিম্নলিখিত ক্ষেত্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে পূর্ণাঙ্গ ছুটি থাকবে:
রাজ্য সরকারি কার্যালয়: রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিস ও প্রশাসনিক দপ্তর এই দিন বন্ধ থাকবে।
স্থানীয় ও বিধিবদ্ধ সংস্থা: সমস্ত স্থানীয় পুরসভা ও পঞ্চায়েত সংস্থা, বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি বোর্ড এবং বিভিন্ন কর্পোরেশন।
{{/usCountry}}স্থানীয় ও বিধিবদ্ধ সংস্থা: সমস্ত স্থানীয় পুরসভা ও পঞ্চায়েত সংস্থা, বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি বোর্ড এবং বিভিন্ন কর্পোরেশন।
{{/usCountry}}শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: রাজ্য সরকার পরিচালিত, নিয়ন্ত্রিত কিংবা সাহায্যপ্রাপ্ত সমস্ত স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
চা বাগানের কর্মচারী: রাজ্যের সমস্ত চা বাগানে কর্মরত আদিবাসী সম্প্রদায়ের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য এই ছুটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য হবে।
এর আগে মঙ্গলবারই উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সিমেস্টারের সূচিতে ফের একপ্রস্থ পরিবর্তন করা হয়। উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমেস্টার শুরু আগামী ২১ সেপ্টেম্বর। পরীক্ষার ১১ দিন আগে প্রথমে উপনির্বাচনের কারণে বদলেছিল রুটিন। এবার ছ’দিন আগে করম পুজোর কারণে রুটিনে বদল করা হয়। ২২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সমস্ত ভোকেশন্যাল বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে ১৩ অক্টোবর দ্বিতীয়ার্ধে দুপুর ২টো থেকে ৩টে পর্যন্ত হবে। প্রয়োজনে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সূচিতে পুনরায় পরিবর্তন আনা হতে পারে বলেও জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)।
করম পুজো
করম পুজো হলো মূলত প্রকৃতি আরাধনার এক বিশেষ উৎসব। এটি কৃষিভিত্তিক একটি পরব। ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এই পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয় দিন সাতেক আগে থেকে। কংসাবতী নদীর চর থেকে মাটি সংগ্রহ করে সেখানে নানা শস্যদানা রোপণ করেন মহিলারা। তার পর সেসব অঙ্কুরিত হয়। করম পুজোর দিন তা তুলে পুজো হয়, চলে নাচগান। কুড়মি ছাড়াও আদিবাসীরা সম্প্রদায়ের মানুষজন করম উৎসবে মেতে ওঠেন। আদিবাসী অধ্যুষিত ছোট নাগপুর মালভূমি এলাকায় হইহই করে পালিত হয় করম উৎসব। রাঢ় বাংলার পুরুলিয়া ছাড়াও সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা, ছত্তিশগড়ের আদিবাসীরা এই উৎসব আনন্দের সঙ্গে করম পুজোয় মেতে ওঠেন। আর এই করম, ভাদু উৎসবের হাত ধরেই উমার আগমনি সূচিত হয় বঙ্গে। এক অর্থে করম শারদোৎসবের আমেজ এনে দেয়। ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যজুড়ে আদিবাসী সমাজ ও সাধারণ মানুষ খুশি। ছুটির তালিকায় আরও একটি দিন যোগ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত রাজ্য সরকারি কর্মীরা।