রাজ্যের নির্বাচন অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হল সুব্রত গুপ্তকে। এর আগে দু’দিনের বঙ্গসফরে এসেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ। কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠকের পরেই বঙ্গের ভোটে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হল সুব্রত গুপ্তকে। এর আগে এসআইআর পর্বে স্পেশাল রোল অবজার্ভার হিসেবে তিনি দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, সুব্রত গুপ্ত অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার। তিনি পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারে ছিলেন।

এসআইআর পর্ব যাতে যথাযথ ভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল সুব্রতবাবুর কাঁধে। এরপর নির্বাচন কমিশনকে এসআইআরের রিপোর্ট পাঠানোরও কথা ছিল তাঁর। এহেন সুব্রত গুপ্তকে ভোটের ময়দানেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে আগেই ইঙ্গিত মিলেছিল। বঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের দু'দিনের সফরের পরে সুব্রতবাবুকে নিয়ে সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হল। এর আগে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন আইপিএস অফিসার এন কে মিশ্রকে একই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রকের সচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন ১৯৯০ সালের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের সুব্রত গুপ্ত। তার আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বায়োটেকনোলোজি এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদে ছিলেন তিনি। সুব্রত গুপ্ত আইআইটি খড়্গপুরের প্রাক্তন ছাত্র। তিনি লন্ডন থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তাঁকে রাজ্য উদ্যানপালন এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, এবং বায়োটেকনোলজির মতো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বদলি করা হয়েছিল। সেই সময় তাঁর চেয়েও জুনিয়র আমলাদের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নিয়োগ করা হয়েছিল। এর আগে সুব্রত গুপ্ত ২০০৭ সাল থেকে চার বছর ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন তথা ডব্লিউবিআইডিস-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১২-১৩ সালে তিনি কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে কর্পোরেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপক পরিচালক ছিলেন।
এদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, সরকারি কর্মীরা যেন কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ না করেন। সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'কোনও ভয় বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়া আইন কার্যকর করুন'। এরই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'এসপি, জেলাশাসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভোটারদের সুরক্ষার সব ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটার বা ভোটকর্মীকে ভয় দেখানো যাবে না। কমিশন এই বিষয়টি কোনও ভাবেই মেনে নেবে না।'
{{/usCountry}}এদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, সরকারি কর্মীরা যেন কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ না করেন। সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'কোনও ভয় বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়া আইন কার্যকর করুন'। এরই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'এসপি, জেলাশাসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভোটারদের সুরক্ষার সব ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটার বা ভোটকর্মীকে ভয় দেখানো যাবে না। কমিশন এই বিষয়টি কোনও ভাবেই মেনে নেবে না।'
{{/usCountry}}এদিকে রাজ্যে ভোট কত দফায় হবে? এই নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বলেন, 'কত দফায় ভোট, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দল পরামর্শ দিয়েছে। কত দফায় ভোট হবে, সে বিষয়ে দিল্লি ফিরে নিশ্চিত করা হবে। বাংলার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভোটের দফা ঠিক হবে।' উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল, সোমবার রাজ্যের ২৩ জেলার জেলাশাসক, জেলা ও পুলিশ জেলার সুপার এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের ২৪টি সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এই আবহে নির্বাচনী হিংসা নিয়ে তাঁর বার্তা, 'হিংসা ও ভয়মুক্ত ভোট করতে হবে। কোনও ভোটারের ওপর চাপ দেওয়ায়ও সহ্য করা হবে না। আগে যে প্রাক ও পরবর্তী ভোট হিংসা হত, আশা করছি, এবারের নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, সেটা এবার হবে না।'