Asish Banerjee's Suicide Note Details: রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তাঁর দেহের সঙ্গে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন। নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়েও গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন আশিস।

রবিবার সকালে রামপুরহাটের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় নিজের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরে পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
সুইসাইড নোটে আশিস বারবার দাবি করেছেন, তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকও হয়েছিলেন। সেখানেও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হননি বলে চিঠিতে দাবি করেছেন তিনি।
আশিস লিখেছেন, রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন দলের সঙ্গে মতবিরোধ হয়েছে। তবে সেই বিরোধ কখনও ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত হয়নি। দলের বিভিন্ন অন্যায় মেনে নিতে না পারলেও তিনি প্রতিবাদ করতে পারেননি বলেও চিঠিতে আক্ষেপ করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেছেন, জীবনে কোনও কাজের বিনিময়ে এক পয়সাও নেননি। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা টিআরডিএ নিয়েও চিঠিতে বিস্তারিত লিখেছেন আশিস। তাঁর দাবি, সেখানে সাধারণ বৈঠক ছাড়া তাঁর তেমন কোনও দায়িত্ব ছিল না। টেন্ডার কমিটিতেও তিনি ছিলেন না। কোনও চেকে সই করার ক্ষমতাও তাঁর ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি।
{{/usCountry}}তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা টিআরডিএ নিয়েও চিঠিতে বিস্তারিত লিখেছেন আশিস। তাঁর দাবি, সেখানে সাধারণ বৈঠক ছাড়া তাঁর তেমন কোনও দায়িত্ব ছিল না। টেন্ডার কমিটিতেও তিনি ছিলেন না। কোনও চেকে সই করার ক্ষমতাও তাঁর ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি।
{{/usCountry}}এমনকি কোনও প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়ার বিষয়েও তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না বলে জানিয়েছেন আশিস। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ছোট করা এবং বদনাম করার জন্য অনেক কিছু করা হয়েছে। সেই কারণেই রাজনীতিতে আসাটাকে ভুল বলে মনে হয়েছে বলে চিঠিতে লিখেছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদেরও রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আশিস। বংশের ছেলেদের নিজ নিজ কাজের মধ্যে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে পরিবারের কেউ যেন রাজনীতিতে না জড়ান, সেই বার্তাই চিঠিতে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
নিজের দীর্ঘ শিক্ষকজীবনের কথাও স্মরণ করেছেন প্রবীণ নেতা। তিনি লিখেছেন, সারা জীবন শিক্ষকতা করেছেন। কখনও ক্লাস ফাঁকি দেননি। বিশেষ ক্লাসও নিয়েছেন। বহু ছাত্রছাত্রীকে বিনা পয়সায় পড়িয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
চিঠির শেষে পরিবারের সদস্যদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আশিস। তবে কোনও রাজনৈতিক নেতার নাম করে সরাসরি অভিযোগ করেননি। কে বা কারা তাঁকে অপমান করার চেষ্টা করেছিলেন, সেটিও স্পষ্ট করে লেখেননি। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কারও বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগও করেননি তিনি।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি মন্ত্রিসভাতেও ছিলেন। স্কুলশিক্ষা ও কৃষি দফতরের মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারও ছিলেন।
২০২২ সালে বগটুই-কাণ্ডের পর তিনি রাজনৈতিক ভাবে চাপে পড়েছিলেন। তবু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকেই প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে ২৪ হাজারের বেশি ভোটে হেরে যান। এরপর তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে খুব বেশি দেখা যায়নি।
এখন পুলিশ তদন্ত করছে। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটটি সত্যিই আশিসের লেখা কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।