মালদায় বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় গোটা দেশে চর্চায় চলে এসেছে সুজাপুরের নাম। সেই সুজাপুরে নাকি লক্ষাধিক নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে সুজাপুর বিধানসভায় মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার। এসআইআরের পরে মৃত ভোটার এবং অন্যান্য মিলিয়ে ১ লাখ ৩৪ হাজার নাম বাদ হয়ে গিয়েছে। বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্যও।

রিপোর্ট অনুযায়ী, সুজাপুর বিধানসভার কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের সিলামপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহল্লাদার পাড়ার ৩ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য মেহেবুল মহল্লাদার নামও বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল সরব হয়েছে। সুজাপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন নির্বাচন কমিশনকে।
উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে সুজাপুর বিধানসভায় প্রায় ৭৬ হাজার ভোটে তৃণমূল পিছিয়ে ছিল কংগ্রেস-সিপিএম জোট প্রার্থীর থেকে। এই আবহে সুজাপুরের বিদায়ী বিধায়ক আবদুল গনিকে এবার টিকিট দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর বদলে মোথাবাড়ির বিধায়ক তথা বিদায়ী মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে সুজাপুরে প্রার্থী করেছে শাসক দল।
উল্লেখ্য, রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ এপ্রিল বিকেল ৪টে থেকে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস ঘেরাও করে বহু মানুষ। সেই সময় বিডিও অফিসে ছিলেন ৭ জন বিচারক। গভীর রাত পর্যন্ত এই সব বিচারকদের বিডিও অফিসেই আটকে রাখে বিক্ষোভকারীরা। সেই ঘটনার নেপথ্যে অন্যতম 'মাথা' এই মোফাক্কেরুল ছিল বলে অভিযোগ। প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে ঘেরাও ছিলেন ৭ বিচারক। প্রায় মধ্যরাতে সেই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এদিকে এই ঘটনার পরও বিচারকদের ওপর হামলার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস থেকে যখন বিচারকদের পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়, সেই কনভয়ে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ কনভয়ের গাড়ির কাচ ভেঙেছে সেই হামলায়। সেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার মূলচক্রী হিসাবে এআইএমআইএম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামের নাম উঠে আসে। নাম জড়ায় আইএসএফ প্রার্থীরও। এই দু'জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে বিডিও অফিসের বাইরে বিক্ষোভে তৃণমূলের সাবিনা ইয়াসমিনও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে বিজেপির তরফ থেকে।