তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে বড়সড় ভাঙনের জল্পনা ঘিরে সোমবার সরগরম দিল্লি ও কলকাতার রাজনৈতিক মহল। সূত্রের দাবি, রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন দলের কোয়েল মল্লিক। এই জল্পনা ঘিরেই নতুন করে চাপ বাড়ছে শাসকদলের অন্দরে। এদিকে সুখেন্দুশেখর রায় আজ সকালে পদত্যাগ করে দেন। এদিকে লোকসভাতেও তৃণমূলে ভাঙন ধরতে পারে। এই আবহে গোপন বৈঠক হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

এই পদত্যাগ ও ভাঙন সংক্রান্ত জল্পনায় কোয়েল মল্লিকের নাম সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে চর্চা তীব্র হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশকে তৃণমূলের বড় চমক হিসেবে দেখা হয়েছিল। শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সম্ভাব্য ইস্তফার জল্পনা স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
অন্যদিকে, প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় দীর্ঘদিন ধরেই দলের বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করে আলোচনায় ছিলেন। ফলে তাঁর পদত্যাগের খবরটি স্বাভাবিক ছিল। যদিও এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে কোয়েল মল্লিক প্রকাশ্যে সম্ভাব্য ইস্তফা নিয়ে মুখ খোলেননি। ফলে গোটা বিষয়টি এখনও জল্পনার স্তরেই রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি সুখেন্দর পরে কোয়েলের পদত্যাগের খবরও সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে তা তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হবে। এমনকি সংসদে দলের শক্তির সমীকরণ এবং আগামী রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। এই আবহেই দিল্লিতে রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে দিনভর রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে সংসদ এবং তৃণমূল শিবিরের দিকে। জল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবের রূপ নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।