...
...
Next Story

BJP-র রুদ্ধদ্বার বৈঠকে গরহাজির শুভেন্দু! ভোটমুখী বঙ্গে কাটাছেড়া, মুখে কুলুপ নেতৃত্বের

বিজেপি সূত্রের দাবি, বিধানসভা আসন ধরে ধরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে।

Published on: Feb 27, 2026, 22:05:40 IST
Advertisement

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। এই আবহে দলের রণকৌশল-সহ একাধিক সাংগঠনিক কর্মসূচি ঠিক করতে দফায় দফায় বৈঠকে বসছে প্রত্যেকটি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ঠিক তেমনই বৃহস্পতিবার কলকাতায় জাতীয় গ্রন্থাগারের অতিথি নিবাসে রাজ্য বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বৈঠক বসেছিল। কিন্তু সেই গোত্রে যাঁরা পড়েন, তাঁদের মধ্যে একজন ছাড়া প্রত্যেকে সেখানে হাজির ছিলেন। অনুপস্থিত ছিলেন শুধুমাত্র রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থিতালিকা নিয়ে ‘অত্যন্ত জরুরি’ আলোচনা হয়েছে বলেই বিজেপি সূত্রের দাবি। তা সত্ত্বেও শুভেন্দুর অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা এবং কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। কারণ, ওই বৈঠকের সময় শহরেই ছিলেন তিনি।

BJP-র রুদ্ধদ্বার বৈঠকে গরহাজির শুভেন্দু!
BJP-র রুদ্ধদ্বার বৈঠকে গরহাজির শুভেন্দু!

সূত্রের খবর, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজনীতি বিষয়ক বিভাগের প্রধান সুকান্ত মজুমদার, সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, যুগ্ম সংগঠন সম্পাদক সতীশ ঢোন্ড রাজ্য দলের তরফে ওই বৈঠকে ছিলেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে ছিলেন সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব, মঙ্গল পাণ্ডে, বিপ্লব দেব এবং অমিত মালব্য। ওই বৈঠকের বিষয়ে বিজেপি আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। ফলে আলোচ্যসূচি সম্পর্কেও বিজেপি নেতাদের তরফে প্রকাশ্য মন্তব্য করা হয়নি। বিজেপির অন্যান্য বৈঠকের ক্ষেত্রে যেমন ছবি প্রকাশ করা হয়, বৃহস্পতিবারের বৈঠকের ক্ষেত্রে তাও করা হয়নি। কিন্তু জাতীয় গ্রন্থাগারে সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বৈঠক চলেছে (সাড়ে ৮টার পরে এক কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক শুধু বেরিয়ে গিয়েছিলেন)। বৈঠকের দৈর্ঘ্যেই তার গুরুত্বের পরিচয় রয়েছে।

বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা?

বিজেপি সূত্রের দাবি, বিধানসভা আসন ধরে ধরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। এমন বৈঠকে রাজ্য বিজেপির অন্যতম প্রধান ‘মুখ’ হিসাবে শুধু নয়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারী হিসাবেই শুভেন্দু অধিকারীর থাকার কথা। কারণ, প্রথমত তিনি বিরোধী দলনেতা। দ্বিতীয়ত, রাজ্য বিজেপির প্রথম সারিতে থাকা অন্য দুই মুখ শমীক বা সুকান্ত বিধানসভা ভোটে লড়বেন না। শুভেন্দু নিজে বিধানসভা ভোটে তো লড়বেনই। অন্য যাঁরা লড়বেন, এই মুহূর্তে তাঁদের দলনেতাও শুভেন্দুই।

রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য এ নিয়ে মুখ খোলেননি। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষদেরও মুখে কুলুপ। বরং বৈঠকে উপস্থিতদের মধ্যে কেউ কেউ ঘনিষ্ঠমহলে জল্পনার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। কেউ বলেছেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী নিজে উপস্থিত হতে না-পারলেও তথ্য এবং পরামর্শ পাঠিয়েছিলেন।’ কেউ আবার বলেছেন, ‘শুভেন্দুদা আগেই জানিয়েছিলেন, এই বৈঠকে তিনি থাকতে পারবেন না। তাঁর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে।’ দলের অন্য একটি অংশের ব্যাখ্যা, বিজেপির দীর্ঘ বৈঠকের পরম্পরার সঙ্গে শুভেন্দু এখনও পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেননি। তিনি দীর্ঘক্ষণ বৈঠকে থাকেন না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজের প্রয়োজনীয় কথাটুকু বলে নিজের পরের কর্মসূচিতে চলে যান। দিনভর নানা প্রকাশ্য তথা জনসংযোগ কর্মসূচিতেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ। বছরখানেক আগে রাজ্য বিজেপির তৎকালীন সভাপতি সুকান্ত এ কথা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন। ঠিক সেই সুরেই বিজেপির এক কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকও তাঁর ঘনিষ্ঠমহলে বৃহস্পতিবার রাতে শুভেন্দুর অনুপস্থিতি নিয়ে অভিমত প্রকাশ করেছেন।

ঘনিষ্ঠদের তিনি জানিয়েছেন, শুভেন্দুর মতো ‘ব্যস্ত নেতা’র পক্ষে সারা দিন ধরে বৈঠকে বসে থাকা কঠিন। যদিও তাতে জল্পনা থামেনি। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বেশি রাতে দক্ষিণ কলকাতার একটি হোটেলে শুভেন্দুর সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের আলাদা এবং একান্ত বৈঠক হয়েছে বলেও বিজেপি সূত্রের খবর। তবে তা দিনের বৈঠকে গরহাজির থাকার কারণে কিনা, তা নিয়ে কেউই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। রাতের ওই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা নিয়েও কেউ মন্তব্যে নারাজ। তবে সকলেরই অনুমান, ভোটের আগে বিরোধী দলনেতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের আলোচনা যে বিধানসভা নির্বাচন এবং তার সম্ভাব্য প্রার্থী এবং ভোট লড়ার কৌশল নিয়েই হবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe