গত দেড় দশক ধরে বাংলায় শিল্পায়নের গতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। শিল্পবাণিজ্য সম্মেলন ঘিরে বড় বড় ঘোষণা হলেও বাস্তবে কতটা বিনিয়োগ এল, তা নিয়ে বিরোধীদের পাশাপাশি শিল্পমহলেও আলোচনা হয়েছে। এবার সরকার বদলের পর সেই পরিস্থিতি বদলানোর দাবি করছে নতুন সরকার। শুধু ঘোষণায় নয়, একের পর এক সংস্থার বিনিয়োগ পরিকল্পনা সামনে আসায় বাংলায় শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার সিটি সেন্টারে একটি বিখ্যাত বস্ত্র বিপণন সংস্থার নতুন আউটলেটের উদ্বোধনে গিয়ে শিল্পবান্ধব বাংলার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আগামী দিনে রাজ্যে বিপুল বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান তৈরি হতে চলেছে।
১৪০টি স্টোর, হাজার একর জমির পরিকল্পনা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট বস্ত্র বিপণন সংস্থা আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বাংলায় ১৪০টি স্টোর খোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তিন বছরের হলেও দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
শুধু খুচরো ব্যবসা নয়, পুরুলিয়াতেও বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সেখানে সংস্থা ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০ একর জমি কিনেছে এবং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে মোট প্রায় ১০০০ একর জমি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বড় মাত্রায় কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগামী দিনে সংস্থাটির বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫০০০ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে।
‘শুধু ছবি তোলার জন্য নয়’
শিল্প আনার ক্ষেত্রে সরকারের পদ্ধতি নিয়েও এদিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, কোনও সংস্থা বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে এলেই তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক ও ব্যবসায়িক বিশ্বাসযোগ্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}শিল্প আনার ক্ষেত্রে সরকারের পদ্ধতি নিয়েও এদিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, কোনও সংস্থা বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে এলেই তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক ও ব্যবসায়িক বিশ্বাসযোগ্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}সংস্থা দুর্নীতির অর্থের সঙ্গে যুক্ত কি না, সেই বিষয়টিও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র শিল্প সম্মেলনে ছবি তোলা বা ঘোষণা করার জন্য বিনিয়োগ আনা নয়, বাস্তবে কাজ শুরু হবে কি না, তা নিশ্চিত করেই এগোতে চাইছে সরকার।
একাধিক বড় বিনিয়োগের দাবিও সামনে
শুধু একটি সংস্থা নয়, আরও কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী বাংলায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে বলে রাজ্য সরকারের তরফে দাবি করা হচ্ছে। আমুল হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে বড় দই কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করেছে বলে জানা যাচ্ছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের অঙ্ক প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বলে সূত্রের খবর।
এ ছাড়াও লাক্স কোজি প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। শ্যাম স্টিলের তরফে বাংলায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পেও নজর
রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর কারখানা তৈরির বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে জাপানি বহুজাতিক সংস্থা মিৎসুবিশি বলেও জানা যাচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই শিল্প বাংলায় এলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোও শক্তিশালী হতে পারে।
অন্যদিকে, সরকার পরিবর্তনের পর শিল্পপতি করণ আদানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকও হয়েছে। নিউটাউন-রাজারহাটে প্রায় ২০০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও বড় বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সরকারের দাবি।
বন্ধ জুটমিলেও ফের কাজের দাবি
সরকারের আরও দাবি, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জুটমিলগুলিতেও নতুন করে কাজ শুরু হচ্ছে। গত এক মাসে প্রায় ১৫টি জুটমিল খুলেছে এবং সেখানে উৎপাদন ফের শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বাংলায় শিল্পখরা কাটছে—এমনই ছবি তুলে ধরতে চাইছে শুভেন্দু সরকার। বিনিয়োগের একাধিক ঘোষণা, নতুন প্রকল্প, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং বন্ধ শিল্পে ফের কাজ শুরুর দাবি—সব মিলিয়ে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে পরিবর্তনের বার্তা দিতে চাইছে সরকার। এখন নজর থাকবে এই ঘোষণাগুলির কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং ঘোষিত বিনিয়োগ কতটা মাটিতে গড়ায়।