আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে সনাতনী সমাজের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস, দেশভাগ এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি দাবি করেন, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং তুষ্টিকরণের রাজনীতি বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে আড়াল করে রেখেছিল।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের যুবসমাজের জানা উচিত পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে গঠিত হয়েছিল এবং দেশভাগের সময় বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশভাগের আগে মহম্মদ আলি জিন্নাহ সমগ্র পূর্ব ভারতকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে ছিলেন। সেই সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর বিরোধিতা করেন এবং ১৯৪৭ সালের ৪ এপ্রিল তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত হিন্দু মহাসম্মেলনে বাংলাকে পাকিস্তানের বাইরে রাখার পক্ষে প্রস্তাব গৃহীত হয়।
শুভেন্দুর দাবি, ওই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তীকালে বাংলার আইনসভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনে তা গৃহীত হয়। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষার ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের সামনে আরও বেশি করে তুলে ধরা প্রয়োজন। এরপরই তিনি নাম না করে পূর্বতন রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি এবং তুষ্টিকরণের কারণে উন্নয়নের প্রশ্ন পিছনে চলে গিয়েছিল। তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও ভোটের সমীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হত। বিশেষত গত কয়েক বছরে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
বক্তৃতায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ঘিরে মুর্শিদাবাদ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হওয়া বিক্ষোভের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অনুমতি পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হত। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি পরিবর্তনের পথে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
{{/usCountry}}বক্তৃতায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ঘিরে মুর্শিদাবাদ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হওয়া বিক্ষোভের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অনুমতি পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হত। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি পরিবর্তনের পথে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
{{/usCountry}}এদিন রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শ্রাবণী মেলাকে ঘিরে এবার বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের মেলায় পরিণত করার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করবে। রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তিনি বাংলার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরার ওপর জোর দিয়েছেন, অন্যদিকে তুষ্টিকরণের রাজনীতি থেকে সরে এসে উন্নয়ন ও বিনিয়োগকেই সরকারের অগ্রাধিকার বলে বার্তা দিয়েছেন।