Suvendu Govt on TMC Irregularity: পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে হওয়া দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রভাব খতিয়ে দেখতে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার নবান্নে বসছে সদ্য গঠিত মন্ত্রিগোষ্ঠীর প্রথম বৈঠক। এই বৈঠক থেকেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে হওয়া বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। সেই ঘোষণার পরেই রাজ্য মন্ত্রিসভা একটি বিশেষ মন্ত্রিগোষ্ঠী বা সাব-কমিটি গঠন করে।
এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রে মনমোহন সিং সরকারের সময় যে 'গ্রুপ অফ মিনিস্টার্স' বা জিওএম গঠন করা হয়েছিল, অনেকটা সেই ধাঁচেই তৈরি হয়েছে এই কমিটি।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় অর্থমন্ত্রীর দফতরে প্রথম বৈঠক হবে। সেখানে শ্বেতপত্র তৈরির রূপরেখা, বিভিন্ন দফতর থেকে তথ্য ও নথি সংগ্রহের পদ্ধতি, তথ্য যাচাই এবং রিপোর্ট তৈরির প্রাথমিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বৈঠকের পর একটি বিস্তারিত রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে। মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন মিললেই শ্বেতপত্র প্রকাশের কাজ শুরু হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এই শ্বেতপত্রে শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, প্রশাসনিক দুর্বলতা, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী নিরাপত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের তথ্য তুলে ধরা হবে। সরকারের বক্তব্য, প্রকৃত তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই এই রিপোর্ট তৈরি করা হবে।
{{/usCountry}}সরকারি সূত্রের দাবি, এই শ্বেতপত্রে শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, প্রশাসনিক দুর্বলতা, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী নিরাপত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের তথ্য তুলে ধরা হবে। সরকারের বক্তব্য, প্রকৃত তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই এই রিপোর্ট তৈরি করা হবে।
{{/usCountry}}রাজনৈতিক পরিভাষায় শ্বেতপত্র হল এমন একটি সরকারি নথি, যেখানে কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্য, পরিসংখ্যান এবং সরকারি নথির ভিত্তিতে বিশদ ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। সাধারণত নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে পূর্ববর্তী সরকারের কাজের মূল্যায়ন বা আর্থিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতেই এমন শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর মাধ্যমে বিরোধীদের উপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করার কৌশলও নেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নাম না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছিলেন। অভিযোগ করেছিলেন, তাঁদের আমলে গড়ে ওঠা বিপুল সম্পত্তিরও তদন্ত হওয়া উচিত।
এর আগে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও জানিয়েছিলেন, তৃণমূল সরকারের আমলের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে সরকার একটি বিস্তারিত শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে। বৃহস্পতিবারের বৈঠক সেই প্রক্রিয়ার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল। এই শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি, দুই ক্ষেত্রেই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।