...
...
Next Story

Suvendu on Chinmay Prabhu: চিন্ময় প্রভুর চোখের জলে আবেগঘন শুভেন্দু, বাংলাদেশ প্রসঙ্গে টানলেন শ্যামাপ্রসাদ-প্রণবানন্দকে

শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে দেশভাগের স্মৃতিও। তিনি বলেন, ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না হলে আজ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পরিস্থিতিও অন্য রকম হতে পারত। সেই প্রসঙ্গে তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

Published on: Sep 12, 2026, 13:32:54 IST
Advertisement

বাংলাদেশে কারাবন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে ঘিরে ফের সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেষ্টপুরে গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে চিন্ময়কৃষ্ণের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা তুলে আবেগঘন মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, চিন্ময়কৃষ্ণের চোখের জল শুধু একটি ব্যক্তিগত কষ্টের ছবি নয়, তা বিশ্বের সনাতনীদের মনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।

বাংলাদেশে কারাবন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে ঘিরে ফের সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। (PTI)
বাংলাদেশে কারাবন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে ঘিরে ফের সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। (PTI)

শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে দেশভাগের স্মৃতিও। তিনি বলেন, ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না হলে আজ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পরিস্থিতিও অন্য রকম হতে পারত। সেই প্রসঙ্গে তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

চিন্ময়কৃষ্ণের চোখের জল নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য

কেষ্টপুরের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, চিন্ময়কৃষ্ণের চোখের জল তাঁকে গভীর ভাবে নাড়া দিয়েছে। তাঁর কথায়, ওই দৃশ্য গোটা বিশ্বের সনাতনী সমাজের হৃদয়কে স্পর্শ করেছে।

এর পরেই তিনি ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশভাগের সময় বাংলার একটি অংশ ভারতের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত না নিলে বর্তমান পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারত। নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশভাগের সময় তাঁর মায়ের পরিবারের সদস্যরা পূর্ববঙ্গ থেকে এপার বাংলায় চলে এসেছিলেন।

পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে মাকে শেষ বিদায়

চিন্ময়কৃষ্ণ দাস দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কারাবন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ-সহ একাধিক মামলা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর মায়ের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় আসে তাঁর পরিস্থিতি।

তবে জীবিত অবস্থায় মায়ের সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা হয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসুস্থ অবস্থায় মা ছেলেকে একবার দেখতে চেয়েছিলেন। সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে শেষকৃত্যে গিয়ে চিন্ময়কৃষ্ণকে আবেগে ভেঙে পড়তে দেখা যায়। একটি ভিডিয়োয় তাঁকে পুণ্ডরিক ধামের রাধাকৃষ্ণের মূর্তির সামনে কাঁদতে দেখা গিয়েছে।

২০২৪ থেকে কারাগারে চিন্ময়কৃষ্ণ

চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে বাংলাদেশের জেলে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রশ্নে তিনি প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন। তাঁর গ্রেফতারের পর বাংলাদেশে যেমন প্রতিবাদ হয়, তেমনই বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনায় আসে।

বর্তমানে তাঁর আইনি পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে। তাই অভিযোগগুলির চূড়ান্ত বিচার এখনও হয়নি।

ইতিহাস টেনে বাংলাদেশের পরিস্থিতির সমালোচনা

শুভেন্দু তাঁর বক্তব্যে চিন্ময়কৃষ্ণের ঘটনা থেকে আরও বড় রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রশ্নের দিকে নজর ফেরান। তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশভাগের সময় বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দের ভূমিকার প্রসঙ্গ সেই ইতিহাসের সঙ্গেই যুক্ত।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝা যায় না। তাঁর নিজের পরিবারের দেশভাগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, সীমান্তের এপার-ওপার বদলে গেলে সাধারণ মানুষের জীবন কতটা বদলে যেতে পারে, তা তাঁর পরিবারও অনুভব করেছে।

চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই শুভেন্দুর এই মন্তব্য তাই শুধু একটি মানবিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু পরিস্থিতি এবং দেশভাগের ইতিহাসকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কও তৈরি করতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks