নিজের করা এক মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জবাবে এবার স্পষ্ট অবস্থান জানালেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী তথা সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, 'কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয় টাকা তুললে স্যাটা গরম করে দেব।' তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহল এবং সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই তাঁর ব্যবহৃত শব্দচয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই বিতর্কের আবহেই এদিন নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন মন্ত্রী। তিনি জানিয়ে দিলেন, বীরভূমের মানুষ হিসেবে তিনি নিজের জেলার আঞ্চলিক ভাষাতেই কথা বলবেন এবং তা নিয়ে কোনও আপস করবেন না। সোমবার বোলপুরের কাছে কংকালীতলায় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনে এসে এই মন্তব্য করেন তিনি।

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'আমি বীরভূমের ছেলে। নিজের ভাষাতেই কথা বলব। তাতে কারও পছন্দ হোক বা না হোক, বীরভূমের ভাষায় কথা বলা বন্ধ হবে না।' তাঁর বক্তব্য, যে অঞ্চলের মানুষ তিনি, সেই অঞ্চলের ভাষা ও শব্দভাণ্ডার তাঁর কথাবার্তায় স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসবে। আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সমালোচনার তীব্র প্রতিবাদও করেন তিনি। বীরভূমের নিজস্ব উপভাষা ব্যবহার করেই মন্ত্রী বলেন, 'সামান্য দুটি শব্দ বলেছি, অমনি গুঁতিয়ে দিছেন, খেদিয়ে দিছেন। এ মানব না।' তিনি দাবি করেন, মানুষের কী বলা উচিত, কী খাওয়া উচিত বা কী পরা উচিত, তা নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই। তাহলে তাঁর ভাষা নিয়ে আপত্তি তোলারও কোনও কারণ থাকতে পারে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, আঞ্চলিক ভাষা কোনও অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁর মতে, যাঁরা বীরভূম বা রাঢ়বঙ্গের ভাষা না বুঝে সমালোচনা করছেন, তাঁরা আসলে ওই অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ভাষাগত ঐতিহ্যকেই অসম্মান করছেন। তাঁর কথায়, 'আমার ভাষারও সম্মান রয়েছে। আমি নিজের ভাষায় কথা বলছি। দুটো-একটা বীরভূমের শব্দ আমার মুখ দিয়ে বেরবেই।'
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ বহুবার সামনে এসেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার বার্তা দিতেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভর্তি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া, কোনও বিতর্ক সৃষ্টি করা নয়।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ বহুবার সামনে এসেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার বার্তা দিতেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভর্তি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া, কোনও বিতর্ক সৃষ্টি করা নয়।
{{/usCountry}}