...
...
Next Story

Kolkata Shocker: 'বিগবসে' ৫০০ কেজি মাংস বাজেয়াপ্ত! ট্যাংরার রেস্তোরাঁয় ভয়ঙ্কর দৃশ্য, জেলাতেও পচা পনির-আইসক্রিমে বিষ

Kolkata Shocker: পুরসভার কর্মীদের দাবি, ফ্রিজের অস্বাস্থ্যকর ও খোলা পরিবেশে যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছিল এসব মাংস। খাবারগুলি কত দিনের পুরনো তা বোঝা যায়নি।

Published on: Sep 2, 2026, 18:54:38 IST
Advertisement

Kolkata Shocker: পুজোর মুখে রাজ্য জুড়ে হোটেল, রেস্তোরাঁয় খাবারের গুণমান পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতেই একের পর এক শিউরে ওঠা দৃশ্য প্রকাশ্যে। এবার খাস কলকাতায় এক নামী রেস্তোরাঁয় ভয়ঙ্কর দৃশ্য। শহর কলকাতার চায়না টাউনের এক নামী রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে তল্লাশি তালাতেই খাবারের মান নিয়ে উঠল বড়সড় প্রশ্ন!

‘বিগ বস’-এ বাসি মাংস

ট্যাংরার রেস্তোরাঁয় ভয়ঙ্কর দৃশ্য, জেলাতেও পচা পনির-আইসক্রিমে বিষ
ট্যাংরার রেস্তোরাঁয় ভয়ঙ্কর দৃশ্য, জেলাতেও পচা পনির-আইসক্রিমে বিষ

কলকাতার ট্যাংরার চায়না টাউনে বিখ্যাত 'বিগবস' রেস্তোরাঁয় পুরসভার অভিযানে উঠে এল চাঞ্চল্যকর ছবি। অভিযোগ, রেস্তোরাঁর ফ্রিজ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাছ, মাংস ও চিংড়ি। পুরসভা সূত্রে খবর, সেগুলির কোনওটিরই সংরক্ষণের তারিখ উল্লেখ ছিল না। এই রেস্তোরাঁয় অভিযানে প্রায় ৫০০ কেজি বাসি মাছ ও মাংস বাজেয়াপ্ত করেছে কলকাতা পুরসভা। পুরসভার কর্মীদের দাবি, ফ্রিজের অস্বাস্থ্যকর ও খোলা পরিবেশে যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছিল এসব মাংস। খাবারগুলি কত দিনের পুরনো তা বোঝা যায়নি। কারণ, খাবারের গায়ে কোনও তারিখ বা লেবেলও পাওয়া যায়নি। ফলে পুজো ও উৎসবের মুখে দাঁড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে বাজেয়াপ্ত সামগ্রী ধাপায় ফেলার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বর্ধমানে মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির

অন্যদিকে, সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযান চালাতেই উদ্ধার হয়েছে কেজি কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির। বুধবার বর্ধমান পৌরসভার সামনে একটি মিষ্টির দোকানে অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে ছিল বর্ধমান থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই দোকান থেকে উদ্ধার হয় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির। দেখা যায়, দোকানের ফ্রিজে রাখা পনির কালো হয়ে গিয়েছে, জমেছে ফাঙ্গাস। একই অভিযোগে বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি নামী মিষ্টির দোকানেও অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেও বিপুল পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ কেজি পনির বাজেয়াপ্ত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আপাতত পনির বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

একইভাবে হুগলিতেও একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে তো আরও ভয়ঙ্কর ছবি ধরা পড়েছে। বুধবার হুগলির দাদপুর থানার মহেশ্বরপুরে জাতীয় সড়কের পাশের একাধিক হোটেল রেস্তোরাঁয় অভিযান চালায় জেলা স্বাস্থ্য দফতরের খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। আর সেখানে হানা দিতেই দেখা গেছে, কোনও হোটেলে দুধে পরে রয়েছে মাছি। কোথাও আবার ফ্রিজ খুলতেই দেখা যায়, থরে থরে প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরা মাংস। হোটেল কর্তৃপক্ষ এই মাংস দুইদিন আগে কেনা হয়েছে বলে দাবি করলেও, তার স্বপক্ষে কোনও বিল দেখাতে পারেনি। ছাতা পরে যাওয়া মাংস, সিদ্ধ করা মাংসও ফ্রিজে জমা করে রাখা হয়েছে দেখা যায়। খারাপ মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করে যান আধিকারিকরা। পাশাপাশি, কাসুন্দি-সস যেগুলি খাওয়া হয়, সেগুলি স্বাস্থ্যকর কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখতে স্যাম্পেল নিয়ে যান আধিকারিকরা।

উত্তরবঙ্গে ভয়ঙ্কর ছবি

এদিকে, উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ে এখন পর্যটনের ভরা মরসুম। রিসর্টগুলিতে ছুটির মেজাজে ভিড় জমিয়েছেন শত শত পর্যটক। এই সুযোগে পর্যটকদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে কিনা, তা দেখতে জলপাইগুড়ির লাটাগুড়ির একাধিক রিসর্টে চলে আকস্মিক অভিযান। বুধবার গরুমারা অভয়ারণ্য সংলগ্ন লাটাগুড়ির বেশ কয়েকটি রিসর্টে মহকুমাশাসকের (SDO) নেতৃত্বে বিশাল প্রশাসনিক দল রান্নাঘর ও ফুড স্টোরে হানা দেয়। কয়েকটি রিসর্টের রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হয় মেয়াদউত্তীর্ণ (Expired) ও পচা খাদ্যসামগ্রী। অনিয়মের কারণে লাটাগুড়ির ৩টি রিসর্টকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে প্রশাসন।

সম্প্রতি খাবারের মান ও বিষক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরেই তৎপর হয়েছে প্রশাসনের। রাজ্য জুড়ে খাবারের মান বজায় রাখতে এবং জাল বা পচা খাবারের কারবার রুখতে অল-আউট অ্যাকশনে নেমেছে রাজ্য খাদ্য দফতর ও স্থানীয় পুরপ্রশাসন। মঙ্গলবারই বাদুড়িয়া ও মধ্যমগ্রামে যশোর রোডের পাশের এক পাঁচতারা শপিং মলের ফুড কোর্টেই মিলেছিল ফাঙ্গাস পড়া পঁচা মাংস, তারিখ উত্তীর্ণ খাবার ও পানীয়। যা দেখেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় রাজ্য সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা পরিদর্শকদের (ফুড সেফটি অফিসার)। মধ্যমগ্রামের ওই শপিং মলের তৃতীয় ও চতুর্থ তলের একের পর এক রেস্টুরেন্টে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি দেখে ফুড কোর্ট মালিকদের খাদ্য ও ব্যবসা সংক্রান্ত লাইসেন্স ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ক্যান্সেল করেন ফুড ইন্সপেক্টররা। বেশ কয়েক বছর ধরে মধ্যমগ্রামের ওই মল কর্তৃপক্ষ একাধিক রেস্টুরেন্টকে ভাড়া দেয়। সেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ খাবার খেতে যান।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe