তারাতলায় নির্মীয়মান তিনতলা গোডাউনের ছাদ ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনার তদন্তে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ করা হচ্ছে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের লোহার রড ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, এটাই গোডাউন ধসে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, লালবাজারের একটি সূত্রে জানিয়েছে, গোডাউন নির্মাণে লোহার রড কেনার জন্য মাত্র ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু গোয়েন্দাদের হিসাব বলছে, এত বড় প্রকল্পে নিরাপদ নির্মাণের জন্য এর চেয়ে অনেক বেশি অর্থ প্রয়োজন ছিল। তাই খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে আরও একটি বড় সমস্যার কথা সামনে এসেছে। দুর্ঘটনার সময় ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তার কোনও নির্দিষ্ট হিসাব নেই। পুলিশ জানিয়েছে, শ্রমিকদের উপস্থিতির কোনও সরকারি নথি বা রেজিস্টার পাওয়া যায়নি। যদি কোনও নথি থেকেও থাকে, তা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে। ফলে এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কোনও শ্রমিক আটকে রয়েছেন কি না।
তদন্তে জানা গেছে, গোডাউন নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছিল বেহরা ব্রাদার্স। তারা আবার নির্মাণের কাজের বরাত দেয় আয়ান ট্রেডার্স নামে একটি সংস্থাকে। ওই সংস্থার কর্ণধার আসগর হোসেনের মৃতদেহ ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয়েছে। তাঁর নাম এফআইআরেও রয়েছে। এছাড়া সংস্থার সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, লোহার কাঠামোর নির্মাতা কমল সামন্ত, বেহরা ব্রাদার্সের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা, শ্রমিক সরবরাহকারী দিবাকর ভাণ্ডারী এবং পরিকল্পনা অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত আবদুল হামিদকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়েছে। আদালত তাঁদের ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং ইচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে গোডাউনের অনুমোদিত নকশা, জমির ৩০ বছরের লিজ চুক্তি এবং নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেহরা ব্রাদার্সের অন্যান্য অংশীদারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। সরকারি আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, গোডাউনের নির্মাণ পরিকল্পনা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, যে বাজেটে নিরাপদ নির্মাণ সম্ভব নয়, সেই সীমিত অর্থের মধ্যেই কাজ শেষ করার চাপ ছিল। ফলে নিম্নমানের লোহা ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, আয়ান ট্রেডার্সের এত বড় নির্মাণকাজ করার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছিল কি না। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
{{/usCountry}}পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং ইচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে গোডাউনের অনুমোদিত নকশা, জমির ৩০ বছরের লিজ চুক্তি এবং নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেহরা ব্রাদার্সের অন্যান্য অংশীদারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। সরকারি আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, গোডাউনের নির্মাণ পরিকল্পনা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, যে বাজেটে নিরাপদ নির্মাণ সম্ভব নয়, সেই সীমিত অর্থের মধ্যেই কাজ শেষ করার চাপ ছিল। ফলে নিম্নমানের লোহা ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, আয়ান ট্রেডার্সের এত বড় নির্মাণকাজ করার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছিল কি না। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
{{/usCountry}}