...
...
Next Story

Taratala Building Collapse: ১-এর বদলে ৩ তলা থেকে ঢালাই, নিম্নমানের উপকরণে তারাতলা বিপর্যয়, রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৪ কাঠা জমির উপর গুদাম নির্মাণের নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই নিয়ম মানা হয়নি। তদন্তে দেখা গিয়েছে, গুদামের তিনতলা পর্যন্ত কাঠামো তৈরি হয়ে যাওয়ার পর উপর থেকে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়েছিল।

Published on: Jun 25, 2026, 09:55:49 IST
Advertisement

Taratala Building Collapse Report: তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অনিয়মের তথ্য। কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা রিপোর্ট বৃহস্পতিবার রাতে পুর কমিশনারের কাছে জমা পড়েছে। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নির্মাণ নকশা অনুযায়ী কাজ না হওয়া, ঢালাইয়ের ভুল পরিকল্পনা এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তারাতলার ৫৪ কাঠা জমির উপর গুদাম নির্মাণের নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল। (@SuvenduWB)
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তারাতলার ৫৪ কাঠা জমির উপর গুদাম নির্মাণের নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল। (@SuvenduWB)

রিপোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৪ কাঠা জমির উপর গুদাম নির্মাণের নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই নিয়ম মানা হয়নি। তদন্তে দেখা গিয়েছে, গুদামের তিনতলা পর্যন্ত কাঠামো তৈরি হয়ে যাওয়ার পর উপর থেকে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নিচের তলা থেকে ধাপে ধাপে ঢালাই করে উপরের দিকে এগোতে হয়। এতে পুরো কাঠামোর ভারসাম্য বজায় থাকে। কিন্তু তারাতলার প্রকল্পে সেই নিয়ম লঙ্ঘন করে উপরের অংশে আগে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়। ফলে নির্মাণ কাঠামো অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে পারেনি এবং ধসে পড়ে।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিচের অংশ যথেষ্ট মজবুত না করেই উপরের স্তরে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে ঢালাই করা হচ্ছিল। এর ফলে কাঠামোর স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি কারণই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, অনুমোদিত নকশায় কোনও ত্রুটি পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা ছিল না। তবে নজরদারির ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল বলে স্বীকার করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিল্ডিং বিভাগে পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের উপর নিয়মিত নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এই ধরনের অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরেই চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।

এদিকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম সমস্ত দায় এড়িয়ে গিয়ে বলেছেন, নির্মাণকার্য কারা করছিলেন বা কোন সংস্থা দায়িত্বে ছিল, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। তিনি জানান, পুরসভা কেবল নকশার অনুমোদন দেয় এবং নির্মাণের গুণমান পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের।

তবে বিরোধীদের প্রশ্ন, যদি নকশায় কোনও ত্রুটি না থাকে, তাহলে এত বড় নির্মাণ অনিয়ম নজর এড়াল কীভাবে? বিশেষ করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত জমিতে নির্মাণ চললেও কেন প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তারাতলা বিপর্যয়ে একাধিক প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে আসার পর এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe