Mamata Banerjee-TMC Rally: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের ইস্যুতে দিল্লির উত্তাপের রেশ এবার সরাসরি এসে পৌঁছোল কলকাতার (Kolkata rally) বুকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিরোধীদের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কলকাতার রাজাবাজার থেকে একটি কেন্দ্রবিরোধী মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে এই মিছিল হওয়ার কথা থাকলেও, লালবাজারের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে এই কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও মঙ্গলবার দেবীপক্ষের তৃতীয়ার দুপুর নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ও দোলা সেন এবং বিধায়ক কুণাল ঘোষের সক্রিয়তায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত সেই মিছিল মাঝপথেই আটকে দিল পুলিশ।

এদিন রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। তবে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা জানান, এই মিছিলের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন যে প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী মিছিলের নির্দিষ্ট রুট, সময় ও লোকসংখ্যার বিবরণ দিয়ে আগে আবেদন করতে হয়, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় পুলিশের কাছে আগাম কোনও দাপ্তরিক তথ্য ছিল না। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট দেখে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায় না, তাই আইন মেনেই পদক্ষেপ করা হবে। এই পুরো পরিস্থিতি ঘিরে আগেই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে দুর্গাপুজোর আনন্দমুখর সময়ে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনে সেন্ট্রাল ফোর্স নামানোর পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের এক পা-ও এগোতে দেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে তিনি পরামর্শ দিয়ে জানান যে এই ধরনের মিছিল এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয় এবং রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাসের মতো ব্যস্ত রুট বেছে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুলিশকে যেখান থেকে মিছিল শুরুর কথা, সেখানেই তা আটকে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। সেই মতোই এদিন মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী তা আটকে দেয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানান হয় মিছিলেন কোনও অনুমতি নেই। এই মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও মিছিলে তাঁকে দেখা যায়নি। তাঁর অনুগামী কুণাল ঘোষ বলেন, 'যেভাবে কাল রাত থেকে হুমকি দিল রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ নামানো হল, চার পাশের রাস্তায় রুটমার্চ করানো হয়েছে...তাদের প্ররোচনায় পা দেব না আমরা। আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সফল। এরা ভয় পেয়েছে। দিল্লি ভয় পেয়েছে, ভয় পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সরকার। জ্ঞানেশ কুমারকে ভোট চোর বলেছি। আপনাদের গায়ে লাগছে কেন? লেঠের বাহিনী নামিয়ে, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে দেখে নেওয়ার কথা...এ তো হল্লা রাজার সেনা! তোরা যুদ্ধ করে করে করবি কী তা বল! যারা পুলিশ আর কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখিয়ে বলে এগোতে দেব না, তারা কাপুরুষের রাজনীতি করছে।'
{{/usCountry}}একই সঙ্গে তিনি পরামর্শ দিয়ে জানান যে এই ধরনের মিছিল এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয় এবং রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাসের মতো ব্যস্ত রুট বেছে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুলিশকে যেখান থেকে মিছিল শুরুর কথা, সেখানেই তা আটকে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। সেই মতোই এদিন মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী তা আটকে দেয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানান হয় মিছিলেন কোনও অনুমতি নেই। এই মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও মিছিলে তাঁকে দেখা যায়নি। তাঁর অনুগামী কুণাল ঘোষ বলেন, 'যেভাবে কাল রাত থেকে হুমকি দিল রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ নামানো হল, চার পাশের রাস্তায় রুটমার্চ করানো হয়েছে...তাদের প্ররোচনায় পা দেব না আমরা। আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সফল। এরা ভয় পেয়েছে। দিল্লি ভয় পেয়েছে, ভয় পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সরকার। জ্ঞানেশ কুমারকে ভোট চোর বলেছি। আপনাদের গায়ে লাগছে কেন? লেঠের বাহিনী নামিয়ে, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে দেখে নেওয়ার কথা...এ তো হল্লা রাজার সেনা! তোরা যুদ্ধ করে করে করবি কী তা বল! যারা পুলিশ আর কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখিয়ে বলে এগোতে দেব না, তারা কাপুরুষের রাজনীতি করছে।'
{{/usCountry}}মিছিল থেকে দোলা সেন বলেন, 'এই পাঁচ মাসে একটা মিটিং-মিছিলের অনুমতিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, তাঁর দলকে দেয়নি এখনকার শাসক দল। প্রত্যেকবার আদালতে যেতে হয়েছে। আজও যুদ্ধপরিস্থিতি। গতকাল প্রশাসনিক প্রধান কারা না কারা ঘোষণা করেছেন এক পাও এগোতে দেওয়া হবে না। দেখে মনে হচ্ছে, হল্লা রাজা চলেছে যুদ্ধে। জলকামান, কেন্দ্রীয় বাহিনী...সামান্য ছাত্রযুবদের মিছিল। আমি-কুণালদা এসেছি সিনিয়র হিসেবে পাশে থাকতে। দু'-দশ পা এগোতে পেরেছি। তার বেশি নয়। ওরা এই মতলবেই আছে যে পুজোর সময় ছাত্রযুবদের জেলে পুরে রেখে দেবে, বেমক্কা পিটিয়ে হাসপাতাল পাঠাবে।'
অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের তরফে মিছিলের সময় এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজোর সময় রাজপথে নামছেন। ওঁর যদি পারমিশন থাকে, তাহলে অবশ্যই পারেন। আমার কাছে যতদূর খবর, পুলিশ ওঁর মিছিলে অনুমতি দেয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই তো ওই দু'চার জন আছেন! তার বাদে তো কেউ নেই। তাঁরা আস্তে আস্তে সঙ্গ ছাড়তে শুরু করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বুঝতে হবে, যাঁদের লোভে উনি মিছিল করছেন... তারাও সঙ্গ ছেড়ে দেবে। চিন্তার কিছু নেই।'