Chorbagan Incident: 'মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে।' এমনই ঘোষণা করা হচ্ছিল চোরবাগান বিপর্যয়ের সময় (Chorbagan Incident)। ওই মৃত্যু মিছিলের পিছনে মাইকে ঘোষণাকারী সেই ব্যক্তিকে আটক করল এবার কলকাতা পুলিশ। সূত্রের খবর, নদিয়া থেকে আটক করা হয়েছে কমিটির সদস্য সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে। লালবাজারে (Laalbazar) নিয়ে এসে তাঁকে জেরা করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই সঞ্জীবের খোঁজ মিলেছিল।

প্রথম সপ্তমীর দিন কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে মুহূর্তের মধ্যে নেমে আসে বিপর্যয়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে হঠাৎ করে বৃষ্টি নামায় হুড়োহুড়ি লেগে যায় দর্শকদের মধ্যে। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ভিড়ের মধ্যেই সবাই প্যান্ডেলের ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। এমনকী এক্সিট এবং এন্ট্রি গেট সরু হাওয়ায় সেখানেই ঘটে পদপিষ্টের ঘটনা। ওই বিপর্যয়ে মৃত্যু হয় ১৯ জনের এবং আহত হন আরও ২৫ জন। তবে সেই ঘটনার সময় মাইকে প্রচার করতে শোনা যায়, 'প্যান্ডেল ভেঙে পড়ছে। প্যান্ডেলের দিকে কেউ আসবেন না। সবাই বাইরে বেরিয়ে যান।' মাইকের ওই একটি ঘোষণা দর্শনার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি করে আতঙ্ক। ওই বিপর্যয়ের পর রাজ্য সরকারের তরফ থেকে গঠন করা হয় সিট। জোরকদমে চলছিল তদন্ত। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পিছনে কমিটির সদস্যদের ধরপাকড় শুরু করেছে প্রশাসন। তবে সেই সময় মাইকে কে প্রচার করছিল, তারই খোঁজ চালাচ্ছিল এতদিন রাজ্য পুলিশ। অবশেষে নদিয়া থেকে আটক করা হল পুজো কমিটির সেই সদস্য সেন্টুকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এর আগে এই ঘটনায় যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই সঞ্জীবের খোঁজ পায় পুলিশ। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্রেস করে নদিয়ায় তাঁর লুকিয়ে থাকার সন্ধান মেলে। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করে লালবাজারে নিয়ে আসা হয়েছে এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে তাঁর ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তাঁকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই সেন্টুর মোবাইল বন্ধ ছিল। গোপন আস্তানা থেকে বিভিন্ন সময়ে অন্য অন্য নম্বর থেকে পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন সেন্টু। তেমনই সন্দেহভাজন আটটি নম্বর ট্র্যাক করেন তদন্তকারীরা। আর সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে সেন্টুকে পাকড়াও করে পুলিশ।
{{/usCountry}}পুলিশ সূত্রে খবর, এর আগে এই ঘটনায় যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই সঞ্জীবের খোঁজ পায় পুলিশ। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্রেস করে নদিয়ায় তাঁর লুকিয়ে থাকার সন্ধান মেলে। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করে লালবাজারে নিয়ে আসা হয়েছে এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে তাঁর ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তাঁকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই সেন্টুর মোবাইল বন্ধ ছিল। গোপন আস্তানা থেকে বিভিন্ন সময়ে অন্য অন্য নম্বর থেকে পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন সেন্টু। তেমনই সন্দেহভাজন আটটি নম্বর ট্র্যাক করেন তদন্তকারীরা। আর সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে সেন্টুকে পাকড়াও করে পুলিশ।
{{/usCountry}}চোরবাগানের বিপর্যয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সেই সব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। এমনই এক ভিডিওয় দেখা গিয়েছিল, গ্রিলে ঘেরা ঘোরানো উড়ালপথের উপরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়েছেন কয়েক জন দর্শনার্থী। অন্য একটি ভিডিওয় দেখা যায়, বাইরে যাওয়ার গেট থেকে মণ্ডপের ৮-১০ মিটার ভিতরে প্রবল ঠেলাঠেলি, ধাক্কাধাক্কির মধ্যে মাটিতে পড়ে গিয়েছেন কয়েক জন। আতঙ্কে অনেকে চিৎকার করছেন। এক পুলিশকর্মী ক্রমাগত কাউকে ফোন করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাঁকে ধরে এক জন মাটি থেকে উঠে দাঁড়ানোরও চেষ্টা করছেন। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই মণ্ডপ থেকে কেউ মাইকে ঘোষণা করেন, ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে।’ সেই ঘোষণায় সবাইকে দ্রুত মণ্ডপ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়। মাইকের ওই ঘোষণায় আরও আতঙ্ক ছড়ায় দর্শনার্থীদের মধ্যে। আরও হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায় বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সেই ঘোষণার বিষয়টিকে সমর্থন করে। চোরবাগানের মণ্ডপের বাইরে যাওয়ার পথেই ছিল ক্লাব সদস্য এবং বিশেষ অতিথিদের বসার ঘর। সেখান থেকে মাইকে ঘোষণার ব্যবস্থাও ছিল। লালবাজার সূত্রে খবর, ঘোষক হিসেবে দু’জন অভিযুক্তের নাম উঠে এসেছে তদন্তে। তাঁদের মধ্যে আটক একজন। ওই সময়ে কেন তিনি মাইকে ওই ধরনের ঘোষণা করলেন? কারও নির্দেশ ছিল কী? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর সেন্টুকে জেরা করে জানতে চান তদন্তকারীরা।