...
...
Next Story

SIR: কর্তব্যে অবিচল! কাটোয়ায় নিজেকেই শুনানির নোটিস ধরালেন BLO, সামশেরগঞ্জের ঘটনায়...

ভোটার তালিকায় তথ্যগত অসঙ্গতি থাকায় কমিশনের নির্দেশ মেনে খোদ নিজেকে এবং নিজের স্ত্রীকেই শুনানির নোটিশ ধরালেন ওই সরকারি কর্মী।

Published on: Jan 14, 2026, 21:35:14 IST
Advertisement

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর কর্মসূচির পুঙ্খানুপুঙ্খ কাজ করে চলেছে বুথ লেভেল অফিসারেরা। সাধারণ মানুষের মধ্যে এসআইআর নিয়ে কোনও অসুবিধা হলে তাঁরা এগিয়ে আসছেন। ফর্ম দেওয়া থেকে শুরু করে শুনানিপর্বে জিজ্ঞাসাবাদ সবটাই দেখছেন তাঁরা। এমতাবস্থায় ঘটল এক আজব ঘটনা। ‘আপনি আচরি ধর্ম’, প্রবাদটি যেন বাস্তবেই প্রয়োগ করে দেখালেন কাটোয়ার ১৬৫ নম্বর বুথের বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম রক্ষায় বিন্দুমাত্র ঢিলেমি করলেন না তিনি। এমনকী ছাড়লেন না নিজেকেও। ভোটার তালিকায় তথ্যগত অসঙ্গতি থাকায় কমিশনের নির্দেশ মেনে খোদ নিজেকে এবং নিজের স্ত্রীকেই শুনানির নোটিশ ধরালেন ওই সরকারি কর্মী।

কাটোয়ায় আজব ঘটনা

শুনানির নোটিস পেলেন খোদ বিএলও (সৌজন্যে টুইটার)
শুনানির নোটিস পেলেন খোদ বিএলও (সৌজন্যে টুইটার)

জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরে। পেশায় শিক্ষক দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় কেতুগ্রামের ভোমরকোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত হলেও বর্তমানে কাটোয়ার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরঙ্গি এলাকায় সপরিবারে বসবাস করেন। সম্প্রতি ভোটার তথ্য যাচাইয়ের সময় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়ে তাঁর নিজের ও স্ত্রীর নথিতে। দেবশঙ্করবাবুর বাবার নামের পদবিতে বানান ভুল এবং স্ত্রী অনিন্দিতা দেবীর ক্ষেত্রে তাঁর বাবার সঙ্গে বয়সের ব্যবধানজনিত ত্রুটি কমিশনের নজরে আসে। দেবশঙ্করবাবুর বাবার নাম পুলকেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি পদবির বানান ভুল রয়েছে। এই কারণেই তাঁকে কমিশন শুনানির নোটিস পাঠায়। অন্যদিকে, স্ত্রীর বাড়ি নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়ায়। তাঁর বাবার নাম অনিল চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর ও বাবার বয়সের পার্থক্য ৫০ বছর দেখাচ্ছে। সে ক্ষেত্রেও এসেছে শুনানির নোটিস।

নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে নোটিশ আসতেই বিএলও হিসেবে নিজের কর্তব্য পালন করলেন দেবশঙ্করবাবু। তিনি জানান, 'বিএলও হলেও আমি নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে কাজ করতে বাধ্য। সেখানে আমার নিজের পরিবার আলাদা কোনও গুরুত্ব পায় না। আইনের চোখে সবাই সমান।' ফলে, আর পাঁচজন সাধারণ নাগরিকের মতোই এখন লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানিতে অংশ নিতে হবে এই দম্পতিকে। এদিকে, বিএলও স্বামীর হাত থেকে নোটিশ পেয়ে কার্যত বাকরুদ্ধ স্ত্রী অনিন্দিতা দেবী। তবে স্বামীর এই কড়া অনুশাসন মেনে নিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, 'এটা ওঁর সরকারি কাজ। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উনি যা করেছেন, তা নিয়ম মেনেই করেছেন।' কাটোয়ার মহকুমা শাসক অনির্বাণ বোস এই প্রসঙ্গে জানান, 'বিএলও হলেও কমিশনের নিয়ম মেনেই তাঁকে কাজ করতে হবে। নিজের পরিবারের ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়ম প্রযোজ্য।' সরকারি দায়িত্ব পালনে এই স্বচ্ছতা প্রশাসনিক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

শুনানির নোটিস পেলেন খোদ বিএলও

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe