Falta Re-Election: এক সময় রাজনৈতিক উত্তাপ, সংঘর্ষ, অভিযোগ আর আতঙ্কের জন্য বারবার শিরোনামে উঠে আসত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। যে ফলতাকে দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে মনে করা হতো, সেই ফলতার মাটিতেই এবার যেন ভোট উৎসবের বিশুদ্ধ হাওয়া। ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের যথেষ্ট ভালো সাড়া মিলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা৷ নির্বাচন কমিশনের দ্বিগুণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘেরাটোপে ফলতায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৮৬.১১ শতাংশ।

২৯ তারিখের বিতর্কিত নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আজ, বৃহস্পতিবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথে হয়েছে পুনর্নির্বাচন। দ্বিতীয় বার ভোটগ্রহণ হলেও ফলতার সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহের ঘাটতি দেখা দেয়নি এতটুকু। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বুথের সামনে লম্বা লাইন দেখা যায়। উৎসাহ নিয়ে ‘ভয়হীন’ ভাবে ভোট দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রবীণ নাগরিক থেকে যুবক-যুবতী, সকলের মধ্যেই ছিল ভোট দেওয়ার আগ্রহ। বহু ভোটারের দাবি, গত এক দশকের মধ্যে এমন শান্তিপূর্ণ ভোট তাঁরা খুব কমই দেখেছেন। তৃণমূলের জাহাঙ্গির খান তাঁর প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ফলতায় মূলত নির্বাচন হচ্ছে বিজেপি এবং বামেদের মধ্যে। পুনর্নির্বাচনের দিন বুথে ঘুরে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। বানেশ্বরপুর থেকে শ্রীরামপুর-সব বুথেই গিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেবাংশু পাণ্ডা বলেন, 'ভয় আউট, ভরসা ইন। মানুষ ভয় কাটিয়ে ভোট দিচ্ছে উৎসবের মেজাজে। আগে ভাবছিলাম এক লক্ষ ভোটে জিতব, এখন দেখছি জয়ের ব্যবধান দেড় লক্ষেরও বেশি হয়ে যাবে।' অন্যদিকে, বেশ কয়েকটি বুথে তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্টদের তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। ফলতায় পুনর্নির্বাচনের দিন খোঁজ পাওয়া গেল না ‘পুষ্পা’ ওরফে জাহাঙ্গিরের। তাঁর বাড়ি এবং দলীয় দফতরের দরজা তালাবন্ধ ছিল। ডাকাডাকির পরেও কেউ ভিতর থেকে দরজা খোলেননি। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। এক্ষেত্রে ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান এবং তাঁর দলবলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন তাঁরা। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ভোট দিতে দিত না জাহাঙ্গিরের বাহিনী। হাতে কালি লাগিয়েও ভোটকেন্দ্র থেকে ফিরে আসতে হত বলে দাবি করেছেন তাঁরা। বলে রাখা ভালো, ফলতায় এবার জাহাঙ্গিরকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন তিনি।
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে ফলতা রাজনীতিতে প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জাহাঙ্গীর খান। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব এতটাই ছিল যে অনেকেই তাঁকে ফলতার 'বেতাজ বাদশা' বলেই উল্লেখ করতেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতায় তৃণমূলের অন্যতম বড় ভরসা ছিলেন জাহাঙ্গীর খান। তবে পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে তাঁর প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে নতুন করে জল্পনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে।
{{/usCountry}}রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে ফলতা রাজনীতিতে প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জাহাঙ্গীর খান। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব এতটাই ছিল যে অনেকেই তাঁকে ফলতার 'বেতাজ বাদশা' বলেই উল্লেখ করতেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতায় তৃণমূলের অন্যতম বড় ভরসা ছিলেন জাহাঙ্গীর খান। তবে পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে তাঁর প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে নতুন করে জল্পনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে।
{{/usCountry}}