কলকাতা বিমানবন্দরে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে ২ জন গ্রাউন্ড স্টাফ আশঙ্কাজনকভাবে আহত হয়েছেন। জানা গিয়েছে, এমিরেটসের বিমান থেকে মালপত্র নামানোর সময় বাজ পড়ে। এই আবহে তাঁরা আহত হন। তাঁদের দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের নাম গোপাল দাস। তাঁর জখম কিছুটা গুরুতর। দু'জনই বিমানবন্দরেই চিকিৎসাধীন আছেন। পরে পরিস্থিতি বুঝে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হতে পারে তাঁদের।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় কলকাতার আকাশ। এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের ফলে সকাল থেকেই যান চলাচলে কিছুটা প্রভাব পড়ে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমলেও আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলছে না। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার দিনভর কলকাতায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে। শনিবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়বে এবং রবিবারও একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকবে।
এদিকে বৃষ্টির জেরে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় জল জমে যায়। তবে যোগ দিবসের আগে পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর পুরসভা। কলেজ স্ট্রিট থেকে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে জল জমেছে। তবে পুরসভা থেকে গাড়ি পাঠিয়ে জায়গায় জায়গায় জল নামানোর চেষ্টা চলছে। অনেক স্থানে ম্যানহোল খুলে দেওয়া হয় রাস্তা থেকে জল সরানোর জন্য। এদিকে আলিপুর চিড়িয়াখানায় পাইপ ফেটে বিপত্তি। সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
আজ প্রবল বৃষ্টি এবং জল জমার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন অফিসমুখী মানুষজন। কোথাও বাসের গতি কমে যায়, কোথাও পথচারীদের প্যান্ট গুটিয়ে জল ঠেলে রাস্তা পার হতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থার বড় অংশ এখনও পুরনো পরিকাঠামোর উপর নির্ভরশীল। অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হলে পাম্পিং স্টেশনগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। পাশাপাশি নালা-নর্দমা ভরাট হয়ে যাওয়া, প্লাস্টিক বর্জ্য জমে থাকা এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণেও জল নামতে সময় লাগে।
{{/usCountry}}আজ প্রবল বৃষ্টি এবং জল জমার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন অফিসমুখী মানুষজন। কোথাও বাসের গতি কমে যায়, কোথাও পথচারীদের প্যান্ট গুটিয়ে জল ঠেলে রাস্তা পার হতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থার বড় অংশ এখনও পুরনো পরিকাঠামোর উপর নির্ভরশীল। অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হলে পাম্পিং স্টেশনগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। পাশাপাশি নালা-নর্দমা ভরাট হয়ে যাওয়া, প্লাস্টিক বর্জ্য জমে থাকা এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণেও জল নামতে সময় লাগে।
{{/usCountry}}আবহাওয়া দফতর আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। ফলে কলকাতাতেও বিক্ষিপ্ত থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশি বৃষ্টি হলে নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। নাগরিকদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার আগে জলনিকাশি ব্যবস্থা উন্নয়নের দাবি করা হলেও বৃষ্টির সময় একই সমস্যা ফিরে আসে। অন্যদিকে পুরসভার দাবি, পাম্পিং স্টেশন, ড্রেন পরিষ্কার এবং জরুরি নজরদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। সব মিলিয়ে, বৃষ্টি কলকাতাবাসীকে গরম থেকে স্বস্তি দিলেও রাস্তায় জল জমার পুরনো সমস্যা এখনও শহরের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বর্ষা যত এগোবে, এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে শহরবাসীর।