FOOD DISTRIBUTION IN GALSI: উৎসব আছে৷ আর খাওয়া দাওয়া থাকবে না? বাংলার পার্বণে রকমারি খাবারই প্রধান উপকরণ৷ তাই বৈশাখের ভোট পার্বণেও জায়গা পেয়েছে মুড়ি, চানাচুর, চপ, ছোলা, শসা, মায় আইসক্রিম পর্যন্ত৷ কিন্তু উৎসবের আয়োজক কারা? ভোটাররা সে'কথা ক্যামেরার সামনে বলতে নারাজ।

বঙ্গ নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় 'বিতরণ মেলা'র ছবি ধরা পড়েছে পূর্ব বর্ধমানের গলসি বিধানসভা কেন্দ্রের টাটরবাঁধ গ্রামে৷ মূলত প্রান্তিক এলাকা হিসেবেই পরিচিত ওই গ্রামের একটি বুথে কার্যত সকালের টিফিন নিয়ে বাড়ি ফিরছেন ভোটাররা। ভোটারদের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আয়োজন করা হয় মুড়ি, চানাচুর, চপ, ছোলা, শসা৷ ভোট দিয়ে বেরতে না বেরতেই ভোটারদের হাতে হাতে সেগুলি তুলে দিচ্ছেন তৃণমূল সমর্থকরা। তবে এখানেই শেষ নয়। অন্যদিকে, গরমের কথা মাথায় রেখে আজকের বিগ্রহ, জনতা জনার্দনের জন্য আইসক্রিমের ব্যবস্থা করেছে বিজেপি৷ সেই আইসক্রিমের রং গেরুয়া হলেও৷ ভোটদান করে চপ-মুড়ি চিবোতে চিবোতে বাড়ি ফিরছেন মায়েরা৷ আর কাঁখের সন্তান আইসক্রিম খেতে ব্যস্ত৷
বিধানসভার ২৬৪ নম্বর বুথ বৃন্দাবনপুর। এই কেন্দ্রের ভোটারদের বেশিরভাগই দিনমজুর৷ বুধবার সকালে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ থেকে মুড়ি বের করে চিবোতে চিবোতে বাড়ি ফিরছিলেন মহিলা ভোটাররা৷ সবার ভোটদান শেষ৷ কে মুড়ি দিল? প্রশ্ন শুনেই হেসে ফেললেন তাঁরা৷ কোন দল এই আয়োজন করল, তা নিয়ে ভোটারদের বিন্দুমাত্র কৌতুহল নেই। মামনি পাতর নামের এক নামে এক ভোটার বলেন, 'আমরা ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। তখন আমাদের মুড়ি দিল। আমরা নিয়ে চলে এলাম। কোন দল দিল, কী জন্য দিল, আমরা অত কিছু জানি না। শুধু মুড়ি নয়, তার সঙ্গে চপ, শশা আর কাঁচালঙ্কাও দিয়েছে৷' অন্যান্য বুথগুলিতেও ভোটারদের জন্য এই ব্যবস্থা রয়েছে কিনা, তা এখনও জানা যায়নি৷ এদিকে গলসির তৃণমূল প্রার্থী অলোক মাঝি বলেন, 'কে দিচ্ছে, কারা দিচ্ছে জানি না। তবে এগুলো ঠিক নয়। তবে ভোটাররা খুশি হলেই হল।' আবার বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র বলেন,'আমাদের তরফ থেকে কিছু দেওয়া হয়নি। তবে ভোট দেওয়ার পর যদি ভোটারদের খুশি করতে কেউ কিছু দেয় তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।' ভোটের বিধি ভঙ্গ হল কিনা তা নিয়ে হেলদোল নেই কারোরই। তবে তৃণমূল-বিজেপির এই ব্যবস্থাপনায় গ্রামীণ মহিলারা যে খুশিতে ডগমগ, তার প্রমাণ মিলেছে৷ নির্বাচনের বাংলায় যেন নতুন আওয়াজ, ভোট যার যার, উৎসব সবার৷