তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলায় ফের কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল কালীঘাট তৃণমূল। দলের দাবি, প্রথমে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হলেও পরে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। অন্তত একটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছে শাসকদল। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে।

বুধবার মামলার শুনানিতে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে হলফনামা পেশ করেন। সেখানে জানানো হয়, তদন্তের জেরে একের পর এক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ায় দলের স্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে। সেই কারণেই অন্তত একটি অ্যাকাউন্ট চালু রাখার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। দলের দাবি, সাংগঠনিক এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যেতে একটি সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অত্যন্ত প্রয়োজন।
অন্যদিকে আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্কও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ব্যাঙ্কের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, মোট তিনটি অ্যাকাউন্টের তথ্যের ভিত্তিতেই হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আগামী শুনানিতে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ অফিসার হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে সব পক্ষের মতামত জানতে চেয়েছে আদালত। এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানিতে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
এর আগে মঙ্গলবার দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। তবে সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, ‘একদিন দেরি হলে আকাশ ভেঙে পড়বে না।’ এরপর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন হিসেবে বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হয়।
{{/usCountry}}এর আগে মঙ্গলবার দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। তবে সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, ‘একদিন দেরি হলে আকাশ ভেঙে পড়বে না।’ এরপর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন হিসেবে বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হয়।
{{/usCountry}}মঙ্গলবারের শুনানিতে বিচারপতি অভিযোগ দায়েরের সময় এবং তার পরপরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। আদালত জানায়, ২৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অভিযোগ দায়ের হয়, আর পরদিন সকালেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। অথচ অভিযোগ দায়েরের আগে ওই অ্যাকাউন্টগুলিকে কেন্দ্র করে কোনও নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ সামনে আসেনি।
এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, অভিযোগ দায়েরের এত অল্প সময়ের মধ্যে কীসের ভিত্তিতে পুলিশ এত দ্রুত অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং আইনি ভিত্তি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এখন নজর বৃহস্পতিবারের শুনানির দিকে। আদালত তৃণমূলের আবেদন, ব্যাঙ্কের হলফনামা এবং তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য শুনে পরবর্তী নির্দেশ দেবে। এই মামলার রায় রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।