...
...
Next Story

TMC Case Controversy Latest Update: তৃণমূলের দপ্তর ও তহবিল মামলায় বিচারককে কটূক্তির অভিযোগ ঘিরে নয়া বিতর্ক

বিচারকের অভিযোগ, মামলার শুনানির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের আইনজীবীরা তাঁকে উদ্দেশ্য করে অসংসদীয় ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এই ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবিতে জেলা বিচারকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিচারক।

Published on: Jul 17, 2026, 08:16:29 IST
Advertisement

TMC Case Controversy Latest Update: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবার আরও জটিল মোড় নিল। দলের দপ্তর ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা আইনি লড়াইয়ে আলিপুর আদালত একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেছে। আদালতের নির্দেশে আপাতত দলীয় কার্যালয় ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের হাতে থাকবে। এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের বিচারকের অভিযোগ, মামলার শুনানির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের আইনজীবীরা তাঁকে উদ্দেশ্য করে অসংসদীয় ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এই ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবিতে জেলা বিচারকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিচারক।

বিচারকের অভিযোগ, মামলার শুনানির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের আইনজীবীরা তাঁকে উদ্দেশ্য করে অসংসদীয় ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
বিচারকের অভিযোগ, মামলার শুনানির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের আইনজীবীরা তাঁকে উদ্দেশ্য করে অসংসদীয় ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।

সূত্রের খবর, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিচারককে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি ও অশালীন ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টিকে বিচারব্যবস্থার মর্যাদার সঙ্গে জড়িত বলে মনে করে তিনি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও কালীঘাট তৃণমূলের তরফে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই মামলার সূত্রপাত তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের বিভাজনকে কেন্দ্র করে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দল কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একদিকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল, অন্যদিকে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা পৃথক শিবির। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একাধিক নেতা ঋতব্রতের দলে যোগ দেওয়ায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতেই কয়েকজন কর্মী আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হন।

আদালত অন্তর্বর্তী পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করে জানায়, আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকেই ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আদালতের মতে, অরূপ রায় যে দলের সর্বভারতীয় চেয়ারম্যান, সেই সংগঠনই অন্তর্বর্তীভাবে দলের নাম, দপ্তর এবং তহবিল ব্যবহারের অধিকারী। আদালতের এই নির্দেশের পর গত ১২ জুলাই সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, আদালত তাঁদের অবস্থানকেই স্বীকৃতি দিয়েছে।

অন্যদিকে, আদালতের এই নির্দেশকে অন্তর্বর্তী আদেশ বলেই উল্লেখ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। দলের পক্ষের আইনজীবী অর্ককুমার নাগ বলেন, ‘এভাবে আদালতের রায়ের ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। এটি চূড়ান্ত রায় নয়, শুধুমাত্র অন্তর্বর্তী নির্দেশ। তৃণমূল ভবনের প্রসঙ্গ যাঁরা তুলছেন, তাঁরা নিজেরাই সেখানে গিয়ে দখল নিয়েছেন। দলের কর্মীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তাঁর নেতৃত্বেই দলের সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি চলবে।’

ফলে একদিকে দলীয় সম্পদ ও সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আইনি লড়াই, অন্যদিকে বিচারককে কটূক্তির অভিযোগ—দুই ঘটনাকে ঘিরেই তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত এই রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েন যে আরও বাড়বে, তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe