কলকাতায় একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গ্রেপ্তারি এবং পুলিশি তদন্তের আবহে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, রবিবার বিকেলে ইএম বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবনে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, দলীয় অন্দরে আশঙ্কা, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ভবনের বাইরে বিক্ষোভ, ডিম ছোড়া বা জনরোষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই বহু কাউন্সিলর প্রকাশ্যে বৈঠকে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনা। শনিবার রাতে পাটুলির ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে রবিবার সকালে কলেজ স্ট্রিটের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমুদ্দিনের বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ। এক তরুণীকে হেনস্তা এবং পূর্বের পকসো মামাকে ঘিরে নতুন অভিযোগের তদন্তে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দেওয়া হচ্ছিল এবং সম্প্রতি তাঁর উপর ফের হামলা চালানো হয়েছে। পরে জসিমউদ্দিনকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
উল্লেখ্য, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর কলকাতার মোট ছয় জন তৃণমূল কাউন্সিলর বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে কলকাতা পুরসভার শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের একটি অংশকে ঘিরে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এমন আবহে তৃণমূল ভবনের প্রকাশ্য বৈঠক বাতিল হওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দলীয় সূত্রে খবর, নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে কাউন্সিলরদের স্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য পরবর্তীতে অন্য কোনও নির্দিষ্ট স্থানে বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে দলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। একের পর এক অভিযোগ, গ্রেপ্তারি এবং তদন্তের ঘটনায় কলকাতার শাসকদল চাপে পড়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এখন নজর থাকবে দলীয় নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং চলমান তদন্তে আর কী তথ্য সামনে আসে তার দিকে।