Priyadarshini Mallik: ১৪ মে উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হয়। এরপরই রাতে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে। বিকাশ ভবনের স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অপসারিত করা হয়। তাঁকে পুরনো কর্মস্থলে ফিরে যেতে বলা হয়। উল্লেখ্য, প্রিয়দর্শিনী শিক্ষকতার সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। তিনি কলকাতার আশুতোষ কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ছিলেন।

প্রসঙ্গত, সরকারে আসার পর থেকেই একের পর এক প্রশাসনিক পদে রদবদল করে আসছেন শুভেন্দু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠছে বা অবসরের পরেও পুনর্বহাল হয়েছিলেন, তাঁদের সরানো হচ্ছে। এই আবহে প্রিয়দর্শিনীকে যে সরানো হতে পারে, তা নিয়ে কয়েদিন ধরেই ফিসফিসানি শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। সেই জল্পনা সত্যি করে বালু কন্যাকে অপসারিত করা হল। শিক্ষা দফতরের ডেপুটি সেক্রেটারির স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে। স্বরাষ্ট্র এবং পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রশাসনিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত নির্দেশিকার উপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিশনার অফ স্কুল এডুকেশন, ডিপিআই এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি এবং আশুতোষ কলেজকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদলের পরে নাকি প্রিয়দর্শিনীকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। যদিও তিনি সেই পরামর্শ গ্রহণ করেননি। এর আগে খাদ্য দুর্নীতি মামলায় বাবা জ্যোতিপ্রিয়র গ্রেফতারির পর থেকেই প্রিয়দর্শিনীকে জল্পনা ছিল। তবে মমতার জমানায় বহাল তবিয়তে পদে আসীন ছিলেন তিনি। এদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের কাজে অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে সংসদের প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এই আবহে রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতেই সচিবের মতো একটি শীর্ষ পদে রদবদল যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ।