বিধানসভায় ফের তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা। আমডাঙার বিধায়ক কাশেম সিদ্দিকী ‘আসল তৃণমূল’ শিবির ছেড়ে কালীঘাট শিবিরে যোগ দেওয়ার পরই ফ্লোর টেস্টের দাবি তুললেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, বিধানসভায় বর্তমানে কোন শিবিরের পাশে কতজন তৃণমূল বিধায়ক রয়েছেন, তা ফ্লোর টেস্টের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া দরকার। তিনি আরও দাবি করেন, এই পরীক্ষা গোপন ব্যালটে করা হোক।

সোমবার বিধানসভার প্রেস কর্নারে কাশেম সিদ্দিকীকে পাশে নিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, আরও এক জন বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবিরে ফিরে এসেছেন। এর পরেই তিনি সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তাঁর বক্তব্য, এবার বিধানসভাতেই দেখা যাক কোন দিকে কত জন তৃণমূল বিধায়ক রয়েছেন।
তবে কুণালের এই দাবি মেনে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ফ্লোর টেস্টের দাবি তাঁরা গ্রহণ করছেন। যে কোনও দিন এই পরীক্ষা হতে পারে। তবে কুণাল ঘোষের হাতে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
ঋতব্রতের বক্তব্য, ফ্লোর টেস্টের দিন ঠিক করার দায়িত্ব বিধানসভার স্পিকারের। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনও রাজনৈতিক নেতা কীভাবে নিজের মতো করে ফ্লোর টেস্টের দিন ঘোষণা করতে পারেন? ফ্লোর টেস্ট কখনও গোপনে হয় না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি। অর্থাৎ কুণাল ঘোষের ‘গোপন ব্যালটে’ ফ্লোর টেস্টের দাবিকে কার্যত খারিজ করে দেন বিরোধী দলনেতা।
কাশেম সিদ্দিকীর শিবির বদল নিয়েও পাল্টা বক্তব্য দেন ঋতব্রত। তাঁর দাবি, কাশেম সিদ্দিকী আসলে কখনও তাঁদের শিবিরে ছিলেন না। তাই ‘ফিরে যাওয়া’ কথাটিও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। কাশেমকে তাঁর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র আমডাঙায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শও দেন ঋতব্রত।
{{/usCountry}}কাশেম সিদ্দিকীর শিবির বদল নিয়েও পাল্টা বক্তব্য দেন ঋতব্রত। তাঁর দাবি, কাশেম সিদ্দিকী আসলে কখনও তাঁদের শিবিরে ছিলেন না। তাই ‘ফিরে যাওয়া’ কথাটিও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। কাশেমকে তাঁর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র আমডাঙায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শও দেন ঋতব্রত।
{{/usCountry}}তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ভোটে জেতার পর কাশেম সিদ্দিকী এলাকায় যাননি। তাই ভোটাররা তাঁকে খুঁজছেন। আগে আমডাঙায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই মন্তব্যকে ঘিরে দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ে।
এদিকে সোমবার বিধানসভায় আরও একটি বিষয় নিয়ে সরব হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ জুলাইয়ের শহিদ বনগাঁর রণজিৎ দাসের পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের বক্তব্য, রণজিৎ দাসের ছেলে রজত একটি চাকরি পেয়েছিলেন। পরে সেই চাকরি চলে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে সেই চাকরি ফেরানোর দাবি তোলা হয়েছে।
এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। রজতের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কমিশনের সুপারিশ মেনে তাঁর পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ওই পরিবারের দাবি নিয়ে সরকার যাতে দ্রুত পদক্ষেপ করে, সেই আর্জিও জানানো হয়েছে।
ফলে একদিকে কাশেম সিদ্দিকীর শিবির বদল ঘিরে ফ্লোর টেস্টের দাবি এবং পাল্টা চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারের দাবি—দুই ইস্যুতেই সোমবার বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল চরমে। এখন নজর, ফ্লোর টেস্ট নিয়ে আদৌ কোনও প্রক্রিয়া শুরু হয় কি না এবং কাশেম সিদ্দিকীর শিবির বদল ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে।