রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর পুরনো অভিযোগের ফাইল খুলে একের পর এক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সেই আবহেই এবার ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি মইদুল ইসলাম। সোমবার তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

ডায়মন্ড হারবারের গুরুদাস নগরের বাসিন্দা মইদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে জেলার পরিচিত রাজনৈতিক ও শিক্ষাবিদ মহলের অন্যতম মুখ। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি সিপিএম ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর তিনি শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ক্রমশ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে শুরু করেন। পরবর্তীকালে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সভাপতির পদেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা সময়ের সঙ্গে আরও বৃদ্ধি পায়। দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি এবং শিক্ষক সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার কারণে রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রেও পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন মইদুল।
তবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি একাধিক অভিযোগও জমা পড়তে থাকে। পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা হচ্ছিল। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে অতীতেও তদন্ত শুরু হয়েছিল। এমনকি একসময় তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ নজরদারির মধ্যেও রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়।
তদন্তকারীদের দাবি, ২০২২ সালের একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন মইদুল ইসলাম। সাম্প্রতিক সময়ে সেই-সহ একাধিক অভিযোগ নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন নথি, তথ্যপ্রমাণ এবং সাক্ষ্য সংগ্রহের কাজও চলছে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই সোমবার তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
{{/usCountry}}তদন্তকারীদের দাবি, ২০২২ সালের একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন মইদুল ইসলাম। সাম্প্রতিক সময়ে সেই-সহ একাধিক অভিযোগ নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন নথি, তথ্যপ্রমাণ এবং সাক্ষ্য সংগ্রহের কাজও চলছে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই সোমবার তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
{{/usCountry}}জানা গিয়েছে, বাইকে করে অন্যত্র যাওয়ার সময় হটুগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে ডায়মন্ড হারবার থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তদন্তকারীরা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েকদিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও একাধিকবার দেখা গিয়েছিল মইদুল ইসলামকে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিজিও কমপ্লেক্সে অভিষেকের হাজিরার দিনও তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন বলে জানা যায়। এছাড়া কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবনেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, তদন্তের স্বার্থেই আইন মেনে সমস্ত পদক্ষেপ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মইদুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ মহল এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।