TMC Naihati Ex Chairman Arrested: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ছবি সামনে আসছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়। বুধবার সকালে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নৈহাটি থানার পুলিশ। ২০২৫ সালে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা, বাড়ি ভাঙচুর, শ্লীলতাহানি, দাঙ্গা উস্কানি দেওয়া এবং মারধরের মতো একাধিক অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই এদিন এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাঁকে বারাকপুর আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তকারীরা তাঁকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূল পরিচালিত বিভিন্ন পুরসভায় প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার ছবি সামনে এসেছে। সেই প্রভাব পড়েছিল নৈহাটি পুরসভাতেও। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক কাউন্সিলর নিয়মিত পুরসভায় যাওয়া বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ। ফলে পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম কার্যত থমকে যায়। নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভও বাড়তে থাকে।
এরই মধ্যে গত মে মাসে একদিন দীর্ঘ বিরতির পর পুরসভায় যান অশোক চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেদিন তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান একদল মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে তাঁকে কার্যত পুরসভা ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়। সেই সময় পুরসভার কয়েকজন কর্মীও হেনস্তার শিকার হন এবং তাঁদের মারধর করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই নৈহাটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে পুরপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন অশোক চট্টোপাধ্যায়। তবে তাঁর আইনি সমস্যার শেষ হয়নি। তদন্ত চলাকালীন সম্প্রতি তাঁর ছেলেকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। আর এবার সরাসরি গ্রেপ্তার হলেন প্রবীণ এই তৃণমূল নেতা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। সেই কারণেই আদালতের কাছে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
{{/usCountry}}পরবর্তীতে পুরপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন অশোক চট্টোপাধ্যায়। তবে তাঁর আইনি সমস্যার শেষ হয়নি। তদন্ত চলাকালীন সম্প্রতি তাঁর ছেলেকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। আর এবার সরাসরি গ্রেপ্তার হলেন প্রবীণ এই তৃণমূল নেতা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। সেই কারণেই আদালতের কাছে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
{{/usCountry}}পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোক চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, দাঙ্গা ছড়ানোর চেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর এবং মারধরের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলির তদন্তে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে বলেই তাঁকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালতে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, ঘটনাগুলির নেপথ্যে আরও কারা জড়িত ছিলেন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, অশোক চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তার ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী শিবিরের দাবি, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলছে এবং অতীতের অভিযোগগুলির তদন্তের ফলেই এই পদক্ষেপ। যদিও তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সব মিলিয়ে, নৈহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধানের গ্রেপ্তার রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্ত এবং পুলিশের তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।