TMC Leaders joining Hindu Organizations: রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপিতে তৃণমূল থেকে যোগদানে কার্যত লাগাম টানা হয়েছে। আর সেই কারণেই কি ঘুরপথে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলিতে নাম লেখানোর চেষ্টা করছেন একাংশ তৃণমূল নেতা-কর্মী? উত্তরবঙ্গের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে ঘিরে এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপির অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দিনহাটার বিজেপি নেত্রী শাবানা খাতুনের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

শাবানা খাতুন অভিযোগ করেছেন, যাঁরা এতদিন তৃণমূলের হয়ে সক্রিয় রাজনীতি করতেন, তাঁদেরই এখন বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, বিজেপিতে সরাসরি যোগদানের সুযোগ না থাকায় একাংশ তৃণমূল কর্মী-সমর্থক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির মাধ্যমে গেরুয়া শিবিরের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছেন। এই প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে দিনহাটার পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি কোচবিহারের কালীঘাট এলাকায় হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের উদ্যোগে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তৃণমূলের কাউন্সিলর ভূষণ সিং-সহ কয়েকজন তৃণমূল নেতা-কর্মীকে দেখা যায়। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। পরে ভূষণ সিং জানান, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না। তবে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে চান।
এর মধ্যেই দিনহাটায় আরও একটি ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগ, বজরং দলের নাম করে একটি খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়ে কার্যত সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরেও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের উত্তরবঙ্গের সহ-সংযোজক সুমন কর্মকার বলেন, কোনও অপরাধী, তোলাবাজ বা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সংগঠনে কোনও জায়গা নেই। হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কিংবা বজরং দল—সব সংগঠনেই এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। যদি কেউ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কাজ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সুরে বজরং দলের দিনহাটা নগর সংযোজক রূপম সাহাও দাবি করেছেন, তৃণমূলের কোনও কর্মী-সমর্থককে বজরং দলে নেওয়া হচ্ছে না। তাঁর কথায়, 'আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। আমরা সমাজসেবামূলক কাজ করছি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়।'
{{/usCountry}}একই সুরে বজরং দলের দিনহাটা নগর সংযোজক রূপম সাহাও দাবি করেছেন, তৃণমূলের কোনও কর্মী-সমর্থককে বজরং দলে নেওয়া হচ্ছে না। তাঁর কথায়, 'আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। আমরা সমাজসেবামূলক কাজ করছি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়।'
{{/usCountry}}এই বিতর্কের মধ্যেই বিজেপির অন্দরেও অন্য একটি অসন্তোষ সামনে এসেছে। দলের একাংশ পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। বিজেপি নেতা পঙ্কজ বুচ্চা ও অজয় সাহা লিখেছেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করা কর্মীদের যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়া উচিত। হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়ে জেলা সংগঠন চালানো হলে ভবিষ্যতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তাঁরা সতর্ক করেছেন।
তবে বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি বলেন, বজরং দল বা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। তবে দলের পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না—এই অভিযোগও সঠিক নয়। তাঁর দাবি, বর্তমানে অভিজ্ঞ ও পুরনো কর্মীদের যথাযথ সম্মান দিয়েই সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে। তবে সবাইকে সাংগঠনিক পদ দেওয়া সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, তৃণমূল থেকে আসা কর্মীদের ভূমিকা, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং বিজেপির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।