...
...
Next Story

TMC Leaders joining Hindu Organizations: বিজেপির দরজা বন্ধ, তাই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনে নাম লেখানোর হিড়িক তৃণমূলিদের

শাবানা খাতুন অভিযোগ করেছেন, যাঁরা এতদিন তৃণমূলের হয়ে সক্রিয় রাজনীতি করতেন, তাঁদেরই এখন বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, বিজেপিতে সরাসরি যোগদানের সুযোগ না থাকায় একাংশ তৃণমূল কর্মী-সমর্থক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির মাধ্যমে গেরুয়া শিবিরের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছেন।

Published on: Jul 7, 2026, 11:04:56 IST
Advertisement

TMC Leaders joining Hindu Organizations: রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপিতে তৃণমূল থেকে যোগদানে কার্যত লাগাম টানা হয়েছে। আর সেই কারণেই কি ঘুরপথে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলিতে নাম লেখানোর চেষ্টা করছেন একাংশ তৃণমূল নেতা-কর্মী? উত্তরবঙ্গের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে ঘিরে এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপির অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দিনহাটার বিজেপি নেত্রী শাবানা খাতুনের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

শাবানা খাতুন অভিযোগ করেছেন, যাঁরা এতদিন তৃণমূলের হয়ে সক্রিয় রাজনীতি করতেন, তাঁদেরই এখন বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
শাবানা খাতুন অভিযোগ করেছেন, যাঁরা এতদিন তৃণমূলের হয়ে সক্রিয় রাজনীতি করতেন, তাঁদেরই এখন বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

শাবানা খাতুন অভিযোগ করেছেন, যাঁরা এতদিন তৃণমূলের হয়ে সক্রিয় রাজনীতি করতেন, তাঁদেরই এখন বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, বিজেপিতে সরাসরি যোগদানের সুযোগ না থাকায় একাংশ তৃণমূল কর্মী-সমর্থক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির মাধ্যমে গেরুয়া শিবিরের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছেন। এই প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে দিনহাটার পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি কোচবিহারের কালীঘাট এলাকায় হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের উদ্যোগে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তৃণমূলের কাউন্সিলর ভূষণ সিং-সহ কয়েকজন তৃণমূল নেতা-কর্মীকে দেখা যায়। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। পরে ভূষণ সিং জানান, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না। তবে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে চান।

এর মধ্যেই দিনহাটায় আরও একটি ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগ, বজরং দলের নাম করে একটি খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়ে কার্যত সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরেও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের উত্তরবঙ্গের সহ-সংযোজক সুমন কর্মকার বলেন, কোনও অপরাধী, তোলাবাজ বা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সংগঠনে কোনও জায়গা নেই। হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কিংবা বজরং দল—সব সংগঠনেই এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। যদি কেউ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কাজ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিতর্কের মধ্যেই বিজেপির অন্দরেও অন্য একটি অসন্তোষ সামনে এসেছে। দলের একাংশ পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। বিজেপি নেতা পঙ্কজ বুচ্চা ও অজয় সাহা লিখেছেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করা কর্মীদের যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়া উচিত। হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়ে জেলা সংগঠন চালানো হলে ভবিষ্যতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তাঁরা সতর্ক করেছেন।

তবে বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি বলেন, বজরং দল বা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। তবে দলের পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না—এই অভিযোগও সঠিক নয়। তাঁর দাবি, বর্তমানে অভিজ্ঞ ও পুরনো কর্মীদের যথাযথ সম্মান দিয়েই সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে। তবে সবাইকে সাংগঠনিক পদ দেওয়া সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে, তৃণমূল থেকে আসা কর্মীদের ভূমিকা, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং বিজেপির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe