অর্থমন্ত্রকের রাজস্ব দফতরের অধীনে থাকা ইডি নাকি আইপ্যাকে হানার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এমনই অভিযোগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস কুণাল ঘোষ। এই নিয়ে তিনি দুই ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। স্ক্রিনশট অনুযায়ী, এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তিকে বলছেন, খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক সাকেত কুমারের থেকে তিনি জানতে পেরেছেন ইডির ১৩ আধিকারিক এবং একজন ডেপুটি ডিরেক্টর দিল্লি থেকে কলকাতায় আসছেন। এছাড়া গুলশান রাই নামে একজন সাইবার বিশেষজ্ঞও আসছেন। তাঁদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে সিজিও কমপ্লেক্সে জরুরি বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছে। কুণালের অভিযোগ, ইডির এই দলটিই পরে আইপ্যাকে হানা দেয়। এই আবহে তৃণমূল নেতার দাবি, শাহের মন্ত্রকের নির্দেশেই আইপ্যাকে হানা দিয়েছিল ইডি।

এই নিয়ে কুণাল ঘোষ লেখেন, 'আইপ্যাক অফিসে তল্লাশির নামে বৃহত্তর চিত্রনাট্যের নেপথ্যকাহিনী? সূত্র মারফৎ পাওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথনের এই মেসেজ সত্য হলে চক্রান্তের পুরোপুরি তদন্ত দরকার। আশা করি পুলিশের তদন্তকারীরা দেখবেন। ইডির গতিবিধি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস থেকে নিয়ন্ত্রিত? প্রশ্নটা উঠছে। খতিয়ে দেখা দরকার। সত্য হলে মারাত্মক।'
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশির সময় আসেন মুখ্যমন্ত্রী। খালি হাতে ঢুকে যান প্রতীকের বাড়িতে। তারপর সবুজ ফাইল হাতে বেরিয়ে আসেন। সেখানে তৃণমূলের হার্ডডিস্ক, কৌশল সংক্রান্ত নথি আছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস থেকে একগুচ্ছ নথি তোলা হয় গাড়িতে। পরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাগজ, নথি, ফাইল পড়েছিল। সেগুলো তৃণমূলের কাগজপত্র। সেগুলিই গাড়িতে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে আইপ্যাকের থেকে কোনও জিনিস বাজেয়াপ্ত করলে ইডি অফিসারদের গ্রেফতার করা হবে - পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার নাকি এমনই হুঁশিয়ারি দেন বলে সূত্র উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়া টুডে'র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তল্লাশির সময় ঘটনাস্থলে রাজ্য পুলিশের ডিজি উপস্থিত ছিলেন। তিনি নাকি ইডি আধিকারিকদের বলেন যে পঞ্চনামায় যেন কোনও কিছুর উল্লেখ না করা হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থার তিন আধিকারিককে বলেন যে ইডি যেন দেখায় যে তল্লাশি অভিযান থেকে কিছু পাওয়া যায়নি। সেই কাজটা না করলে তাঁদের গ্রেফতার করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এমনিতে ইডি কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা দায়ের করেছে, তাতে ‘পার্টি’ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজিকেও।