উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে বিজয়ী তৃণমূল প্রার্থী বীণা মণ্ডলের বাড়ি ইট মারার অভিযোগ বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর বিধানসভা কেন্দ্রে ১৬,০১৭ ভোটে জয়ী হন বীণা মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, ৫ মে বিকেলে বিজেপি কর্মী-সমর্থক ডিজে বাজিয়ে তাঁর বাড়ির সামনে হাজির হন। কিছুক্ষণ সেখানে 'জয় শ্রী রাম' ধ্বনি তোলে। তারপর সেই ভিড় থেকে কয়েকজন বিধায়কের বাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে।

এরপর খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও যান সেখানে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। রাজনৈতিক হিংসা প্রসঙ্গে বসিরহাটের পুলিশ সুপার অলকানন্দা ভাওয়াল জানান, মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে কিছু বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর মিলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাই কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন করা হয়েছে। ক্রমাগত টহলদারি চালানো হচ্ছে সেই এলাকায়। বিধায়কের বাড়িতে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বীণা বলেন, 'আমি মানুষের রায়ে জিতেছি, অথচ আমার বাড়িতে এসে গাড়ি ও সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালানো হল। এটা কেমন গণতন্ত্র?' তাঁকে শারীরিক নিগ্রহ করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী। উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যে বিজেপি এবং তৃণমূল দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটেছে এই পর্যন্ত। হাওড়া, বেলেঘাটা, নানুর থেকে নিউটাউনে ঝরেছে রক্ত। এরই সঙ্গে বহু জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় বিজেপির জয়ী প্রার্থীরা গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের অভয় প্রদান করে এসেছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও হিংসায় বিজেপি কর্মীরা জড়িত থাকলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। সঙ্গে তিনি এও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তৃণমূলের একটি অংশ এখন অপর পক্ষকে বিজেপি পতাকা হাতে মারছে। এই আবহে সদ্য তৃণমূল থেকে স্বঘোষিত বিজেপি হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সাবধান করেছেন তিনি। এছাড়া দলের রং না দেখে প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তা সত্ত্বেও জায়গায় জায়গায় দেখা গিয়েছে হিংসার এই দৃশ্য।