ভোটের মুখে দল ছাড়লেন বাদুড়িয়ার বিধায়ক কাজি আবদুর রহিম। এবারের ভোটে তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। এই আবহে আগেই দলবদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। এবার তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই নিয়ে বার্তা দেন তিনি। তাঁর ক্ষোভ, ২০২১ সালে দলের দুঃসময়ে পাশে থাকলেও এবারে তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি। সঙ্গে তাঁর বার্তা, তিনি কখনও আপোসের রাজনীতি করিনি। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন আবদুর রহিম। যদিও তখন দল বদল করেও বিধায়ক পদ ছাড়েননি। পরে ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিটে ফের বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি।

এহেন আবদুর রহিম নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, 'আমি সবসময় সত্য, ন্যায় এবং আদর্শের পথে চলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে যে গভীর ফারাক তৈরি হয়েছে, তা আর উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বারবার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত। আমি কখনও আপোসের রাজনীতি করিনি, আর ভবিষ্যতেও করব না। আমার পিতার আদর্শ আমাকে শিখিয়েছে- অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, সত্যের পথেই অটল থাকা। সেই কারণেই আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সকল পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করলাম । আমি মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব- এটাই আমার অঙ্গীকার।'
উল্লেখ্য, বসিরহাটের বাদুড়িয়া আসনে এবার তৃণমূল প্রার্থী করেছে বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটনকে। এই পরিস্থিতিতে বেশ কিছুদিন ধরেই বেসুরো ছিলেন আবদুল রহিম। এই পরিস্থিতিতে তিনি তৃণমূলের রাজ্য সভাপতিকে চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করলেন দল থেকে। এদিকে বসিরহাটে শুধু বাদুড়িয়া নয়, বাকি আরও ৫টি আসনে বিদায়ী বিধায়কদের টিকিট দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। সংখ্যালঘুদের ভোটে যাতে হুমায়ুন-এআইএমআইএম জোট থাবা না বসাতে পারে, তার জন্য প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া রুখতে চাইছে তৃণমূল। তাই এবার রাজ্যের বহু বিদায়ী বিধায়ককেই টিকিট দেয়নি দল। বসিরহাট এলাকাতেও সেই ফর্মুলায় টিকিট বণ্টন করেছে ঘাসফুল শিবির।