মালদার কালিয়াচকে বিচারকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের। বিজেপির অভিযোগ, গত ১ এপ্রিল যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, সেখানে শুরু থেকে ছিলেন মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য দাবি করেন, কালিয়াচকে সাত বিচারককে আটকে রাখার ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই সাবিনাকে প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ ওঠার পরে সাবিনা ইয়াসমিন উলটে শুভেন্দু অধিকারীকে তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন, 'শুভেন্দু অধিকারী আমাকে বরাবরই খুব ভয় পায়। ভোট এলেই ভয় পায়। শুভেন্দুর ইয়ে ডর মুঝে আচ্ছা লাগা।' যদিও কালিয়াচকের অশান্তির ঘটনায় তাঁর যোগ থাকা বা না থাকার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন সাবিনা। উল্লেখ্য, এবার সাবিনাকে মোথাবাড়ির বদলে সুজাপুর থেকে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সাবিনাকে ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে বিডিও অফিসের একদম গেটের সামনে বসে স্লোগান তুলতে। সেখানে তৃণমূলের আরও কর্মী সমর্থকরা ছিলেন জাতীয় পতাকা নিয়ে।
এদিকে কালিয়াচকে বিডিও অফিসে ৭ বিচারককে ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় এআইএমআইএম নেতা তথা আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে। সব মিলিয়ে এই মামলায় প্রায় ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোথাবাড়ি কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলিও গ্রেফতার হয়েছে এই মামলায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ এপ্রিল বিকেল ৪টে থেকে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস ঘেরাও করে বহু মানুষ। সেই সময় বিডিও অফিসে ছিলেন ৭ জন বিচারক। গভীর রাত পর্যন্ত এই সব বিচারকদের বিডিও অফিসেই আটকে রাখে বিক্ষোভকারীরা। সেই ঘটনার নেপথ্যে অন্যতম 'মাথা' এই মোফাক্কেরুল ছিল বলে অভিযোগ। প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে ঘেরাও ছিলেন ৭ বিচারক। প্রায় মধ্যরাতে সেই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এদিকে এই ঘটনার পরও বিচারকদের ওপর হামলার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস থেকে যখন বিচারকদের পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়, সেই কনভয়ে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ কনভয়ের গাড়ির কাচ ভেঙেছে সেই হামলায়। সেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার মূলচক্রী হিসাবে মোফাক্কেরুলের নাম উঠে আসে। নাম জড়ায় আইএসএফ প্রার্থীরও।