বাড়ির সামনে থেকে একের পর এক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরানোর পর এ বার আদালতের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডে তাঁর বাড়ি শান্তিনিকেতনের সামনে সম্প্রতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশ কিয়স্ক। তার আগে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা, স্ক্যানার এবং নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত আরও কিছু ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন করেছেন অভিষেকের আইনজীবী।

সোমবার আদালতে এই বিষয়টি তোলেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ভোটের আগে অভিষেককে জেড প্লাস নিরাপত্তা দেওয়া হত। কিন্তু ক্ষমতার পরিবর্তনের পরে ধাপে ধাপে সেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁর বাড়িতে আগের মতো নিরাপত্তা নেই, কয়েক জন হাউস গার্ডই মূলত দায়িত্বে রয়েছেন বলে আদালতকে জানানো হয়েছে।
অভিষেকের আইনজীবীর আরও দাবি, অতীতে তাঁর মক্কেলকে একাধিক বার হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। তাই নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টি হালকা ভাবে দেখার সুযোগ নেই। এই কারণেই মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
তবে অভিষেকের নিরাপত্তা কমানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল কয়েক মাস আগেই। মে মাসে তাঁর বাড়ি এবং দফতরের বাইরে থাকা অতিরিক্ত পুলিশি ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হয়। নিরাপত্তা পর্যালোচনার পরে অতিরিক্ত মোতায়েন, ব্যারিকেড এবং স্ক্যানারের মতো ব্যবস্থাগুলি তুলে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল প্রশাসন। পুলিশের বক্তব্য ছিল, নিয়ম অনুযায়ী যে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, সেটুকুই বজায় রাখা হবে।
মে মাসের পর আরও এক ধাপ এগিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শান্তিনিকেতনের সামনে থাকা পুলিশ কিয়স্কও সরিয়ে দেওয়া হয়। কেন নতুন করে কিয়স্ক সরানো হল, সে বিষয়ে কলকাতা পুলিশের তরফে কোনও নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমে খবর।
{{/usCountry}}মে মাসের পর আরও এক ধাপ এগিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শান্তিনিকেতনের সামনে থাকা পুলিশ কিয়স্কও সরিয়ে দেওয়া হয়। কেন নতুন করে কিয়স্ক সরানো হল, সে বিষয়ে কলকাতা পুলিশের তরফে কোনও নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমে খবর।
{{/usCountry}}এখানেই প্রশ্ন উঠছে, আচমকা কেন নিরাপত্তা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলেন অভিষেক? এর পিছনে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। কিছু দিন আগে সোনারপুরে দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছিল। সেই সময় থেকেই তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছিল। তাঁর শিবিরের বক্তব্য, এমন ঘটনার পরে নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়।
অন্য দিকে, অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলার বিষয়টিও এই সময় রাজনৈতিক আলোচনায় রয়েছে। কয়েকটি মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছে। সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখের এক আদেশে আরও তিনটি মামলায় ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশের কোনও জোরালো পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ফলে এক দিকে নিরাপত্তা কমানো, অন্য দিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং একাধিক মামলাকে ঘিরে চাপানউতোর, সব মিলিয়ে অভিষেকের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে করা আবেদনে কলকাতা হাই কোর্ট কী নির্দেশ দেয়। প্রশাসনের নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং অভিষেকের আশঙ্কা, দুই দিক মিলিয়েই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।