Mahua on Baruipur Encounter: বারুইপুরের ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ধৃত অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসনের বদলে ‘জঙ্গলরাজ’ কায়েম হয়েছে। এনকাউন্টার সংস্কৃতির অভিযোগ তুলে তিনি রাজ্যকে ‘উত্তরপ্রদেশ ২.০’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।

বুধবার ভোরে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় প্রভাস মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে দাবি, অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায়। আত্মরক্ষার স্বার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পরই সমাজমাধ্যমে সরব হন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এক্স-এ করা পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের মামলার অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এনকাউন্টারে নিহত। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, এটা কী হচ্ছে? বাংলার মানুষ নতুন বাংলা, অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশ ২.০-এ স্বাগত। এটা কোনও সরকার নয়, এটা জঙ্গলরাজ।’
পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময়ই সে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। অভিযুক্তের গুলির জবাবেই পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। প্রভাস মণ্ডল এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার আগে সিসিটিভি ফুটেজে নির্যাতিতার সঙ্গে তাকে দেখা গিয়েছিল।
এদিকে ঘটনার আগের দিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিজিপি)-কে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুরো ঘটনার রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, তদন্তে যদি পুলিশের কোনও গাফিলতি বা বিলম্বের প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারের পর গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নির্দোষ ছিলেন। তাঁর কথায়, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেই তথ্যই উঠে এসেছে এবং ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারও ন্যায়বিচার পাবে।
{{/usCountry}}এদিকে ঘটনার আগের দিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিজিপি)-কে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুরো ঘটনার রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, তদন্তে যদি পুলিশের কোনও গাফিলতি বা বিলম্বের প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারের পর গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নির্দোষ ছিলেন। তাঁর কথায়, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেই তথ্যই উঠে এসেছে এবং ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারও ন্যায়বিচার পাবে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, গত রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুর হাট এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ১১ বছরের এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে পথ অবরোধ, বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই দিন উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়, যাকে পরে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নির্দোষ বলে জানায়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে রাজ্য সরকার। তবে প্রধান অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর ঘটনাটি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।