রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-সাংসদ যখন দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দিচ্ছেন, তখন রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। দীর্ঘদিন তাঁকে দলের কোনও কর্মসূচিতে দেখা না যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটালেন তিনি।

এদিন বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে হাজির হন রাজীব কুমার। মঞ্চে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র-সহ একাধিক নেতা-নেত্রীর উপস্থিতির মধ্যেই মহুয়ার ঠিক পিছনের সারিতে বসে ছিলেন রাজীব কুমার। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উপস্থিতির মধ্য দিয়েই তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন।
রাজীব কুমারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) এবং তার আগে কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৯ সালে সারদা মামলার তদন্তে সিবিআই তাঁর বাড়িতে পৌঁছলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছিলেন। সেই ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতেও ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছিল।
পরে অবসর গ্রহণের পর তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তৃণমূলের টিকিটে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হন। একই সময়ে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকও তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় মনোনীত হয়েছিলেন।
তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কোয়েল মল্লিক সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের খবর সামনে আসতেই বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা তৈরি হয়। এর আগেও তৃণমূলের একাধিক রাজ্যসভার সাংসদ— সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক— দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে আবার রাজ্যসভায় গিয়েছেন। ফলে রাজীব কুমারও একই পথে হাঁটবেন কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল।
{{/usCountry}}তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কোয়েল মল্লিক সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের খবর সামনে আসতেই বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা তৈরি হয়। এর আগেও তৃণমূলের একাধিক রাজ্যসভার সাংসদ— সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক— দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে আবার রাজ্যসভায় গিয়েছেন। ফলে রাজীব কুমারও একই পথে হাঁটবেন কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল।
{{/usCountry}}শুধু রাজ্যসভা নয়, তৃণমূলের একাধিক লোকসভার সাংসদও সম্প্রতি দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজীব কুমারের দীর্ঘ নীরবতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি সেই সমস্ত জল্পনায় কার্যত ইতি টেনে দিল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের কঠিন সময়ে প্রকাশ্যে দলের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজীব কুমার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছেন। তাঁর এই উপস্থিতি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, তৃণমূলে ভাঙনের আবহে রাজীব কুমারের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে উপস্থিতি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে যোগদান নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্ত জল্পনার কার্যত অবসান ঘটাল।