বিধানসভা ভোটে জেতার পরই তৃণমূলকে ভাঙানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরই মাঝে হঠাৎই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, বিজেপিতে যোগদান করার জন্য নাকি বেশ কয়েকজন তৃণমূল সাংসদ মুখিয়ে আছেন। এদিকে শপথগ্রহণের পরই মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে নির্বাচিত তৃণমূলের কয়েকজন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেখা করেন। এদিকে সিতাইয়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া শপথ গ্রহণের আগে পর্যন্ত বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গেই বসে ছিলেন। তাঁকে বেশ কিছুক্ষণ একান্তে শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বাসুনিয়ার স্ত্রী। এতে জল্পনা আরও বেড়েছিল।

এই আবহে তৃণমূল সাংসদ সায়নীকে প্রশ্ন করা হয়, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য টিডিপির ওপর নির্ভশীলতা কমাতে নাকি তৃণমূলের বেশ কয়েকজন সাংসদকে বিজেপি টার্গেট করছে বলে শোনা যাচ্ছে। এই প্রশ্নের জবাবে সায়নী ঘোষ বলেন, 'এই সব নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। কারণ আমি রাজনীতিতে খুব নতুন। তবে এটুকু বলতে চাই, এরকম সময়ে যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে দেবেন, তাঁর পার্টির ক্ষেত্রে বেনোজল। এবং বেনোজল যত তাড়াতাড়ি চলে যায়, পার্টির তত বেশি সুবিধা হবে।'
এমনিতেই বিজেপির জয়ের পরে তৃণমূলের নীচু পর্যায়ের কর্মীরা রাতারাতি রং পালটেছেন। তৃণমূলের বহু মুখপাত্রের মুখে বিজেপির প্রশংসা শোনা যায়। অনেক তৃণমূল নেতা নিজেরাই ঘোষণা করে দেন, তাঁরা নাকি বিজেপি। ভোটের ফল প্রকাশের পরে বিকেলেই এলাকায় এলাকায় অটো, টটো থেকে তৃণমূলের পতাকার বদলে উড়তে শুরু করে বিজেপির পতাকা। এই পালাবদলের ধাক্কায় 'আহত' তৃণমূলকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টায় পরপর বৈঠক করছেন মমতা। এর আগে তৃণমূলের বিধায়ক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মমতা। আইটি সেলকে ভেঙে দিয়ে কোর কমিটি গড়ে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ক্লাস নেন মমতা। এরপর গতকাল তৃণমূলের সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা। সেই বৈঠকের পরই সাংসদদের মধ্যে ফাটলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল সায়নীকে।