TMC Municipality Chairman Resign: বীরভূমের সাঁইথিয়া পুরসভায় বড়সড় রাজনৈতিক অস্থিরতার ছবি সামনে এল। পুরপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি কাউন্সিলর পদও ছাড়লেন সাঁইথিয়ার পুরপ্রধান বিপ্লব দত্ত। সোমবার বীরভূম জেলাশাসকের দফতরে গিয়ে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, বর্তমানে কোনটি প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস, সেটাই তিনি আর বুঝে উঠতে পারছেন না।

বিপ্লব দত্ত জানান, দলের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বিভাজন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তাঁর কথায়, একটি দলের মধ্যে এত ভাঙন তৈরি হয়েছে যে সাধারণ কর্মীদের পক্ষে প্রকৃত অবস্থান বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে তিনি বেশি মন্তব্য করতে চাননি। নিজেকে ‘ছোট মানুষ’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি সাধারণ মানুষের মনোভাবও বিবেচনা করেছেন।
বিপ্লবের দাবি, সাধারণ মানুষও তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলেই তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। সেই কারণেই তিনি চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর—দুই পদ থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা কাউন্সিলরদেরও জানানো হয়েছিল এবং তাঁরাও পদত্যাগের পথে হাঁটার কথা জানিয়েছেন।
২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে সাঁইথিয়া পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩টিতেই বিরোধী কোনও প্রার্থী ছিল না। মাত্র তিনটি ওয়ার্ডে বামফ্রন্ট প্রার্থী দিয়েছিল। কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই পুরসভা দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সময়ই পুরপ্রধান নির্বাচিত হন বিপ্লব দত্ত। এই ঘটনায় তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিজেপি কটাক্ষ করে বলেছে, যে পুরসভায় বিরোধীদের ভোটে লড়তেই দেওয়া হয়নি, সেই পুরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই এখন ক্ষমতা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সাঁইথিয়া পুরসভার মোট ১৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৪ জনই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পুরসভার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।