পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলে কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) সম্প্রতি নোটিস পাঠিয়েছে। সেই নোটিসের একটি তথাকথিক কপি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন তৃণমূলের সেনাপতি। এই আবহে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, নোটিসটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভুয়ো। দলের বক্তব্য, 'আমরা মিডিয়া কভারেজ এবং কেএমসির নোটিস সম্পর্কিত পোস্টগুলি দেখেছি। বিজেপি দাবি করছে, 'অনানুষ্ঠানিকভাবে' এই নোটিস ফাঁস হয়েছে - তাতে তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং মাননীয় সাংসদ শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে যুক্ত একাধিক সম্পত্তির বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, পাশাপাশি অন্যান্য নেতাদের এই বিষয়ে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে যে নোটিস এবং মিডিয়া কভারেজ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভুয়ো।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ফ্ল্যাটের যৌথ মালিক হিসেবে নাকি নাম রয়েছে সায়নী ঘোষের। খবরের চ্যানেল জি ২৪ ঘণ্টার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কলকাতা পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, ১৯ডি সেভেন ট্যাঙ্ক রোড-এর একটি ফ্ল্যাটের যৌথ মালিকানা রয়েছে অভিষেক এবং সায়নী ঘোষের। এই নিয়ে নিয়ে সম্প্রতি জোর চর্চা শুরু হয়েছে। উল্লেখিত ঠিকানার সম্পত্তির মালিক হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। এবং নথি অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটির যৌথ মালিকানা (জয়েন্ট প্রোপাইটার) রয়েছে নেত্রী সায়নী ঘোষের নামে। এই সংক্রান্ত একটি নথি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়েছে। এই আবহে প্রশ্ন উঠে এসেছে, এই 'সায়নী ঘোষ' কি তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ?
উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে নোটিস পাঠানো হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর বাড়ির সব নির্মাণ বৈধ কি না, তা জানতে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই আবহে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে পুরসভায় হাজির হতে বলা হয়েছে অভিষেককে। বিল্ডিং বিভাগের আইনের ৪০১ ধারায় এই নোটিসটি পাঠানো হয়েছে। এর আগে সম্প্রতি ফলতায় প্রচারে গিয়ে অভিষেকের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তোপ দেগেছিলেন। এরপরই কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে অভিষেকের কাছে গেল নোটিস। জানা গিয়েছে, হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বাড়ি ছাড়াও কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল ভবন নিয়েও নোটিস পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও ১৫টি সম্পত্তিতে এই ধরনের নোটিস পাঠানো হয়েছে। তারই মধ্যে রয়েছে সেভেন ট্যাঙ্ক রোডের সেই ফ্ল্যাটটি। যদিও তৃণমূল দাবি করেছে, যে তালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাফেরা করছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো।