ঝাড়গ্রামে গিয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই ঝালমুড়িতে যেন ঝাল লেগেছে তৃণমূলের। উল্লেখ্য, মোদীর জনসভার দিনেই ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের হয়ে প্রচারে যাওয়ার কথা ছিল ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের। তবে নরেন্দ্র মোদীর কর্মসূচির জন্য সেখানে নো ফ্লাই জোর ঘোষণা করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ঝাড়গ্রামে সভা না করেই রাঁচিতে ফিরে যেতে হয় হেমন্ত সোরেনকে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপিকে 'আদিবাসী বিরোধী' দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

লালগড়ের সঞ্জীব সঙ্ঘ মাঠে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মঙ্গল সরেনের সমর্থনে তৃণমূল একটি জনসভার আয়োজন করেছিল। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল হেমন্ত ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেনের। তৃণমূলের দাবি, হেলিপ্যাড থেকে শুরু করে সভামঞ্চ, সবকিছুর জন্যই নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে আগে থেকেই প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর সভা বাতিল করে রাঁচিতে ফিরে যেতে বাধ্য হন সোরেন দম্পতি। এই আবহে তৃণমূলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী ঝাড়গ্রামে ইচ্ছে করে নিজের সফর দীর্ঘায়িত করতে 'ঝালমুড়ি' খাচ্ছিলেন, যাতে আদিবাসী নেতাদের প্রচার বানচাল করা যায়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দাঁতন এবং কেশিয়াড়িতে পূর্বনির্ধারিত সভা করার পর কপ্টারে করে ঝাড়গ্রামে আসার কথা ছিল সোরেন দম্পতির। প্রধানমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত থাকার কারণে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে পুরো এলাকাটিকে 'নো ফ্লাই জোন' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, ঝাড়গ্রামে 'ঝালমুড়ি' খাওয়ার জন্য তাঁর নির্ধারিত সফরসূচি বেশ কিছুটা দীর্ঘায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী। এই আবহে জেলা তৃণমূল সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, 'আমরা খুব মর্মাহত ও দুঃখিত। আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি এবং তীব্র প্রতিবাদ করছি যে, এইভাবে তারা ভারতবর্ষের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে। নির্বাচন কমিশনের সব নিয়ম মেনেই আমরা সভার আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী ওখানে সভা করছেন বলে নো ফ্লাই জোন করে কপ্টার আটকে দেওয়া হল। জঙ্গলমহলবাসীদের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, এইবার আপনারা বুঝুন বিজেপি কত নীচ এবং হীন কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করে না। তাই আগামী দিনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাকে রক্ষার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এই ধরনের চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রকারী রাজনৈতিক দলকে জঙ্গলমহল থেকে উৎখাত করতেই হবে।'