...
...
Next Story

'খাব না আমরা মাছ?’ বন্দে ভারত স্লিপারে ভেজ খাবার দেখেই বাঙালি আবেগে শান তৃণমূলের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি বঙ্গ সফরে এসে মালদহ থেকে এই বন্দে ভারত স্লিপারের উদ্বোধন করেন।

Published on: Jan 23, 2026, 18:23:42 IST
Advertisement

এক সপ্তাহ হয়নি দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস চালু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের মধ্যে। আধুনিক রেলযাত্রার নতুন অধ্যায়, এমনটাই বলছে রেল। কিন্তু ট্রেনের চাকা ঘুরতেই শুরু হয়ে গেল বিতর্ক। শুধু কি বিতর্ক? ছাব্বিশের মহারণের আগে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল ফের উস্কে দিল বাঙালি আবেগ। কিন্তু কোন ইস্যুতে কাটাছেড়া? কী নিয়ে এত কটাক্ষ? আসলে এই অত্যাধুনিক বন্দে ভারত স্লিপারে যাত্রীরা পাচ্ছেন শুধু নিরামিষ খাবার। মেনুতে নেই কোনও নন ভেজ অপশন। বাংলা থেকে চলবে অথচ মাছ-মাংস নেই! বাঙালির সেই আবেগকেই ‘ক্যাচের’ মতো লুফে নির্বাচনের প্রাক্কালে ময়দানে নামল রাজ্যের শাসকদল। নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছে, ‘মাছ খাব না আমরা? খাব না আমরা মাছ?’

বন্দে ভারত স্লিপারের উদ্বোধন ও মেনু

বন্দে ভারত স্লিপারের ভেজ খাবার নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের (PTI)
বন্দে ভারত স্লিপারের ভেজ খাবার নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের (PTI)

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি বঙ্গ সফরে এসে মালদহ থেকে এই বন্দে ভারত স্লিপারের উদ্বোধন করেন। হাওড়া থেকে কামাখ্যা রুটে সপ্তাহে ছ’দিন চলবে দেশের প্রথম এই স্লিপার বন্দে ভারত। ইতিমধ্যেই অনলাইনে টিকিট কাটতে শুরু করেছেন যাত্রীরা। কিন্তু টিকিট কাটার সময় খাবারের অপশনে ঢুকতেই চোখ কপালে উঠছে। সেখানে শুধুই নিরামিষ খাবারের তালিকা। মাছ-মাংস বা ডিম-আমিষের কোনও বিকল্পই নেই। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কী কী দেওয়া হচ্ছে মেনুতে। রেল সূত্রে খবর, হাওড়া থেকে কামাক্ষ্যা যাওয়ার সময় মেনুতে থাকছে বাসন্তী পোলাও, ছোলার ডাল, মুগ ডাল, ঝুরি আলু ভাজা, ছানা বা ধোকার ডালনা, লাবড়া, সন্দেশ, রসগোল্লা। আর বন্দে ভারত স্লিপার অসমীয়া মেনুতে থাকছে সুগন্ধী জোহা ভাত, মাটি মাহর ডাল, মুসুর ডাল, সবজি, ভাজাভুজি, নারকেল বরফি।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

এই বিষয়টি সামনে আসতেই বৃহস্পতিবার এক্স-এ একটি পোস্ট করে তীব্র আক্রমণ শানায় শাসকদল তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, 'প্রথমে ওরা আমাদের ভোটে নজরদারি করেছে। এবার আমাদের খাবারের থালাতেও নজরদারি চালাচ্ছে।' তৃণমূলের অভিযোগ, বাংলা থেকে অসম, দুই রাজ্যের মানুষই আমিষপ্রিয়। সেখানে এমন একটি দীর্ঘপথের ট্রেনে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার চাপিয়ে দেওয়া আসলে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের নামান্তর। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, বাঙালিকে ‘মুঘল’ তকমা দেওয়ার মানসিকতাই এর নেপথ্যে কাজ করছে। তৃণমূলের তরফে উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, দিল্লিতে মাছ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ, চিকেন প্যাটিস বিক্রির অভিযোগে এক গরিব হকারকে মারধরের ঘটনা-সব মিলিয়ে বিজেপির একটি নির্দিষ্ট খাদ্যসংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতাই ফের সামনে এল। দলের বক্তব্য, 'আজ বলছে আমরা কী খাব। কাল বলবে আমরা কী পড়ব, কাকে ভালবাসব, কার সঙ্গে থাকব।'

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe