...
...
Next Story

খেলা ঘুরে গেল ভরতপুরে! ভোটের মুখে TMC-র বড় ধাক্কা, অধীরের হাত ধরে 'ঘরওয়াপসি' দাপুটে নেতা সিজারের

আদতে পুরনো কংগ্রেসী আজাহার উদ্দিন সিজার রাজ্যে পালাবদলের আবহে কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১০ বছর তিনি তৃণমূলের সালার ব্লক সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন।

Published on: Mar 6, 2026, 14:25:16 IST
Advertisement

বঙ্গ নির্বাচনের প্রাক্কালে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর বিধানসভা এলাকায় বড়সড় ধাক্কা খেল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার বিকেলে সালারের উজুনিয়াতে আয়োজিত এক জনসভায় ঘাসফুল শিবির ত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগ দিলেন দাপুটে নেতা তথা প্রাক্তন ব্লক তৃণমূল সভাপতি আজাহার উদ্দিন সিজার। তাঁর সঙ্গে কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মীর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে স্বাগত জানান প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।

অধীরের হাত ধরে 'ঘরওয়াপসি' দাপুটে নেতা সিজারের (সৌজন্যে ফেসবুক )
অধীরের হাত ধরে 'ঘরওয়াপসি' দাপুটে নেতা সিজারের (সৌজন্যে ফেসবুক )

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই আজাহার উদ্দিন সিজারের এই দলবদল ভরতপুর এলাকায় তৃণমূলে যে বড়সড় ফাটল ধরাল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আদতে পুরনো কংগ্রেসী সিজার রাজ্যে পালাবদলের আবহে কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১০ বছর তিনি তৃণমূলের সালার ব্লক সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর হাত থেকে তেরঙা পতাকা গ্রহণ করে পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে এলেন সেই সিজার। তাঁর হাতে পতাকা তুলে দেওয়ার পর অধীর চৌধুরী জানান, 'মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে উন্নয়নের প্রকৃত দিশা কংগ্রেসই দেখাতে পারে। সিজারের প্রত্যাবর্তনে মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের হাত আরও শক্ত হলো।' আর এখন বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে তাঁর 'ঘরওয়াপসিতে' ভরতপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ বড়সড় বদল হতে পারে বলে মনে করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের পতাকা হাতে নেওয়ার পর মঞ্চ থেকে শাসক দলকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন আজাহার উদ্দিন সিজার। তিনি রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, 'ভরতপুর বিধানসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সেই সংকল্প নিয়েই আজ আমরা ঘরওয়াপসি করলাম।' যোগদান সভার শেষে এদিন এক সৌজন্যের ছবিও ধরা পড়ে। সভা শেষে স্থানীয় গ্রামবাসীদের আমন্ত্রণে এক ইফতার মাহফিলে যোগ দেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সেখানে সাধারণ কংগ্রেস কর্মী ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে বসে ইফতার সারেন তিনি। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিজারের মতো প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে কয়েক হাজার কর্মীর দলবদল নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগেই এই ঘটনা ভরতপুরের রাজনৈতিক সমীকরণকে ওলটপালট করে দিতে পারে। বিশেষ করে কয়েক হাজার কর্মীর এই গণ-যোগদান কংগ্রেস শিবিরকে বড় ধরনের ‘অক্সিজেন’ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ জেলা রাজনীতিতে এই ঘটনা এখন টক অফ দ্য টাউন।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks