Sitong Homestay Fire: পাহাড়ের কোলে আনন্দঘন ছুটির মুহূর্ত নিমেষেই বদলে গেল বিভীষিকায়। কার্সিয়াং মহকুমার মনোরম পাহাড়ি গ্রাম সিটংয়ের (সিটং-১) খাসমহল এলাকার (Sitong Homestay Fire) এক হোমস্টেতে দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার নিকিতা সাহা। তাঁকে বাঁচাতে দগ্ধ হয়েছেন তাঁর স্বামী সৌভিক দাসও। এই ঘটনায় হোমস্টের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন নবদম্পতির পরিবার। পাল্টা দায় ঠেলতে শুরু করেছেন হোমস্টে কর্তৃপক্ষও।

ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হোমস্টের মালিক নেহাল আইরনের দাবি, ওই দম্পতির তরফেই বারবিকিউ করার আবদার করা হয়েছিল। নিকিতা সাহাকে বার বার বারণ করা সত্ত্বেও তিনি বারবিকিউয়ের আগুনের সামনে বসেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, হাসপাতালে নিয়ে যেতেও দেরি করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে পরিবারের তরফে, তা উড়িয়ে দিয়েছেন নেহাল। তাঁর কথায়, ‘ঘটনাটা ১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ঘটেছিল। ওই দম্পতি ঘুরে এসে বারবিকিউ করতে চেয়েছিলেন। সেই মতো আমরা বারবিকিউয়ের আয়োজন করি। সেই সময়ে হোমস্টে-র ম্যানেজারকে ডিনার রেডি করতে বলেছিলেন নিকিতা। একই সঙ্গে উনি জানিয়েছিলেন, ওঁর ঠান্ডা লাগছে। ওঁর কথা মতো আঁচ বাড়াতে গিয়েই ঘটনাটা ঘটে। কেরোসিন ঢালতে গিয়েই আগুন ধরে যায়।’
হোমস্টের মালিক আরও দাবি করেছেন, তরুণীকে চুল বেঁধে রাখতে এবং সুতির পোশাক পরতে বারবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি পলিয়েস্টার জাতীয় পোশাক পরে থাকায় আগুন দ্রুত তাঁর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। নেহালের কথায়, ‘ওঁকে (নিকিতাকে) বার বার বলা হয়েছিল, একটু দূরে বসতে। উনি শোনেননি। আর ওঁর পরনেও নাইলনের পোশাক ছিল। ওঁর চুলও বাঁধা ছিল না। সেই কারণেই দ্রুত আগুন ধরে যায় শরীরে। তবে দ্রুত সেই আগুন নেভানো হয়েছে। আমাদের ম্যানেজার জলে ভেজা তোয়ালে দিয়ে আগুন নেভান। যে ভিডিওটা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে সেই ফুটেজ নেই।’
এদিকে, হোমস্টেতে দুর্ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে অবশ্য দেখা গিয়েছে, নবদম্পতি বারান্দায় বারবিকিউয়ের সামনে বসে ছিলেন। উল্টো দিকে এক ব্যক্তি তাঁদের সাহায্য করছিলেন। হঠাৎই ওই ব্যক্তি বারবিকিউয়ের আঁচে কিছু একটা ঢালতেই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। সেই আগুনে ঝলসে যান নিকিতা। তাঁর স্বামী দ্রুত নিজের পরনের গেঞ্জি খুলে তা দিয়ে স্ত্রীর গায়ে জড়িয়ে দিতে যান। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। পরিবার সূত্রে খবর, বারবিকিউয়ে আগুনের তাপ বাড়াতে থিনার ঢালার সময়েই ঘটনাটি ঘটে। আগুন লেগে বিস্ফোরণ ঘটে থিনারের জারে। পরিবারের বক্তব্য, বারবিকিউয়ের সময়ে কেন সাবধানতা অবলম্বন করেননি হোমস্টে কর্মীরা?
{{/usCountry}}এদিকে, হোমস্টেতে দুর্ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে অবশ্য দেখা গিয়েছে, নবদম্পতি বারান্দায় বারবিকিউয়ের সামনে বসে ছিলেন। উল্টো দিকে এক ব্যক্তি তাঁদের সাহায্য করছিলেন। হঠাৎই ওই ব্যক্তি বারবিকিউয়ের আঁচে কিছু একটা ঢালতেই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। সেই আগুনে ঝলসে যান নিকিতা। তাঁর স্বামী দ্রুত নিজের পরনের গেঞ্জি খুলে তা দিয়ে স্ত্রীর গায়ে জড়িয়ে দিতে যান। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। পরিবার সূত্রে খবর, বারবিকিউয়ে আগুনের তাপ বাড়াতে থিনার ঢালার সময়েই ঘটনাটি ঘটে। আগুন লেগে বিস্ফোরণ ঘটে থিনারের জারে। পরিবারের বক্তব্য, বারবিকিউয়ের সময়ে কেন সাবধানতা অবলম্বন করেননি হোমস্টে কর্মীরা?
{{/usCountry}}ইতিমধ্যেই কার্শিয়াং থানায় ওই হোমস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে নিকিতার পরিবার। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পরে সৌভিকের তৎপরতায় দ্রুত আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু হোমস্টের গাফিলতিতে নিকিতাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। শাশুড়ি বলেন, ‘হোমস্টে-তে গাড়ি ছিল। কিন্তু তার পরেও হাসপাতালে নিয়ে যেতে এক ঘণ্টা লেগেছে। কারণ ড্রাইভার ছিল না। ওদের অনেক গাফিলতি ছিল। আমরা চাই, হোমস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ নিকিতার পরিবার সূত্রে খবর, আগুনে তাঁর শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। নিকিতার অবস্থা সঙ্কটজনক বলেই জানা গিয়েছে পরিবার সূত্রে। যদিও নেহালের দাবি, তাঁরা ১০ মিনিটের মধ্যেই তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘আমাদের কাছে কোনও ড্রাইভার ছিল না। পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে একজন ড্রাইভারকে ডেকে আনা হয়েছিল। উনি কার্শিয়াং থেকে শিলিগুড়ির হাসপাতালে ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে পৌঁছে দিয়েছে। ওখানে আমাদের লোক বেশ কিছু ক্ষণ ছিলেন। ওঁরা পরে পরিবারের অনুমতি নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।’
পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রগুলো, বিশেষ করে হোমস্টেতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সহ সামগ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক নির্দেশিকা থাকলেও, বাস্তবে কতটা মানা হয়- সেই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।