Satabdi Roy on Mamata Banerjee: তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখালেও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আবেগের টান এখনও কাটেনি অভিনেত্রী-সাংসদ শতাব্দী রায়ের। এই আবহে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে বিদ্রোহী শিবিরের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও মানসিক ও নৈতিক দিক থেকে তিনি এখনও দ্বিধায় ভুগছেন। এর আগে চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায় দাবি করেছিলেন, গত কয়েক বছরে 'দিদি বদলে গিয়েছিলেন' এবং দলের সাধারণ সাংসদদের কথা আর শোনা হত না।

এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শতাব্দী রায় বলেন, 'রাজনৈতিকভাবে আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি বলে মনে করি। কিন্তু আবেগের দিক থেকে, নৈতিকভাবে আমি ভুল।' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কী বলতে চান জানতে চাওয়া হলে তাঁর সংক্ষিপ্ত উত্তর, 'আই মিস ইউ দিদি!' শতাব্দী বর্তমানে বিদ্রোহী সাংসদ গোষ্ঠীর অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ডেপুটি হিসেবে কাজ করছেন। বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে এনডিএকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে সাক্ষাৎকারে শতাব্দী আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনী পরাজয়ের কারণ নিয়ে দলের ভিতরে খোলামেলা আলোচনা হয়নি। তাঁর মতে, দুর্নীতি, সংগঠনের সমস্যা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে অসন্তোষের বিষয়গুলি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। তিনি দাবি করেন, ভোটে পরাজয়ের পর দলীয় বৈঠকে এই প্রশ্নগুলি উত্থাপনের সুযোগও ছিল না। শতাব্দী রায় বলেন, তাঁর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগের সম্পর্ক থাকলেও মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের মধ্যে কেবলমাত্র কিছু নির্দিষ্ট নেতারই নেতৃত্বের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ ছিল, বাকিদের মতামত গুরুত্ব পেত না। এই আবহে একদিকে বিদ্রোহী শিবিরে সক্রিয় ভূমিকা, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও আবেগ- শতাব্দী রায়ের এই মন্তব্য তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এর আগে বিদ্রোহীদের বৈঠকে যোগ দেওয়া দেবও বলেন, তিনি মমতাকে শ্রদ্ধা করেন এবং তিনি সব সময় তাঁর পাশেই আছেন; নতুন তৃণমূলে তিনি যোগ দেননি।