Ritbrata on Mamata's Abhishek Comment: রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের তীব্র বাকযুদ্ধ। তৃণমূল কংগ্রেসে একের পর এক নেতা, বিধায়ক ও সাংসদের দলত্যাগের আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে মুখোমুখি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ফেসবুক লাইভে অভিষেককে ‘বাঘের মতো লড়াকু’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন মমতা। সেই মন্তব্যেরই কড়া জবাব দিলেন ঋতব্রত। তাঁর কটাক্ষ, অভিষেককে ‘বাঘ’ নয়, ‘বাঘরোল’ বলাই বেশি উপযুক্ত।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙনের ছবি স্পষ্ট। একের পর এক বিধায়ক, সাংসদ ও নেতা দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। দলত্যাগীদের অনেকেই দাবি করেছেন, দলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের জন্য দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অভিষেককে সামনে রেখে নানা অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। আসল কারণ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ।
এই আবহেই বুধবার ফেসবুক লাইভে মমতা বলেন, 'অভিষেক খারাপ, এটা শুধু বাহানা। এজেন্সির ভয়েই অনেকেই দল ছাড়ছেন। রুজিরা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন। আপনারা পারেন না। অভিষেক আজও বাঘের মতো লড়ে যাচ্ছে।' মমতার এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'এটা একটা অদ্ভুত জেলা। একদিকে মেট্রো ঢুকছে, অন্যদিকে বাঘ ঘুরছে। উনি যাঁকে বাঘ বলেছেন, ঘটনাচক্রে তিনিই এই জেলার সাংসদ। তবে এখানে বাঘ যেমন আছে, বাঘরোলও আছে। আমার মনে হয় উনি বাঘরোল বলতে চেয়েছিলেন, ভুল করে বাঘ বলে ফেলেছেন।'
এতেই থামেননি ঋতব্রত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আর্থিক তছরুপ-সহ যে সব অভিযোগ ওঁর বিরুদ্ধে শোনা যাচ্ছে, সেগুলো যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে অন্য অর্থে অবশ্যই তাঁকে বাঘ বলতে হবে।”
{{/usCountry}}এতেই থামেননি ঋতব্রত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আর্থিক তছরুপ-সহ যে সব অভিযোগ ওঁর বিরুদ্ধে শোনা যাচ্ছে, সেগুলো যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে অন্য অর্থে অবশ্যই তাঁকে বাঘ বলতে হবে।”
{{/usCountry}}অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর অতীতে ডিম ছোড়ার ঘটনার উল্লেখ করেও কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর কথায়, “বাঘ ডিম খায় বলে তো শুনিনি। কিন্তু বাঘরোল আর ভামবিড়াল ডিম চুরি করে খায়। যাঁকে উনি বাঘ বলছেন, তিনি ডিম খাবেন না বলেই তো বাইরে বেরোতে চাইছিলেন না।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়লা পাচার, নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যদিও তিনি বারবার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিন ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় তদন্তের স্বার্থে নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনাও দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও জোরদার হয়েছে। দলত্যাগীরা অভিষেকের নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দল ছাড়ার নেপথ্যে আদর্শ নয়, রয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, তৃণমূলের অন্দরের ক্ষোভই এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে।