...
...
Next Story

Tulsi Mala Controversy in Purulia School: তিলক-তুলসিমালার জন্য টিসি পুরুলিয়ায়! বিতর্কের মুখে ছাত্রীকে ফেরাল স্কুল

অভিযোগ, গত এক বছর ধরেই তিলক ও তুলসিমালা নিয়ে সুমনা মাজিকে বিভিন্নভাবে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছিল। সম্প্রতি সকালের প্রার্থনা চলাকালীন সকল ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষিকাদের সামনে তাঁর কপালের তিলক মুছে দেওয়া হয়। এতে অপমানিত বোধ করেন ওই ছাত্রী।

Published on: Jul 10, 2026, 09:46:26 IST
Advertisement

Tulsi Mala Controversy in Purulia School: মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একই ধরনের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল পুরুলিয়ার পাড়া গার্লস হাইস্কুল (উচ্চ মাধ্যমিক)। গুরুদেবের কাছে দীক্ষা নেওয়ার পর কপালে লম্বা তিলক কেটে এবং গলায় তুলসির মালা পরে স্কুলে আসায় আপত্তি জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুমনা মাজিকে প্রকাশ্যে প্রার্থনা সভার সময় কপালের তিলক মুছিয়ে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এভাবে স্কুলে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সেই ছাত্রীকে টিসি দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। প্রশাসনিক চাপে শেষ পর্যন্ত ছাত্রীর ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) প্রত্যাহার করে তাকে ফের স্কুলে ভর্তি নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ, একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুমনা মাজিকে প্রকাশ্যে প্রার্থনা সভার সময় কপালের তিলক মুছিয়ে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এভাবে স্কুলে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ, একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুমনা মাজিকে প্রকাশ্যে প্রার্থনা সভার সময় কপালের তিলক মুছিয়ে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এভাবে স্কুলে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগ, গত এক বছর ধরেই তিলক ও তুলসিমালা নিয়ে সুমনা মাজিকে বিভিন্নভাবে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছিল। সম্প্রতি সকালের প্রার্থনা চলাকালীন সকল ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষিকাদের সামনে তাঁর কপালের তিলক মুছে দেওয়া হয়। এতে অপমানিত বোধ করেন ওই ছাত্রী। পরিবারের দাবি, এই ঘটনার মানসিক অভিঘাতে সুমনা আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিল।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্কুলে যান ছাত্রীর মা বাসন্তী মাজি। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবাদের জেরেই স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সুমনার ট্রান্সফার সার্টিফিকেট পাঠিয়ে দেয়। এরপরই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর দ্রুত হস্তক্ষেপ করে জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চায়।

গত বুধবার তদন্তে যান জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক মহুয়া বসাক। পরে তিনি জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই টিসি প্রত্যাহার করেছে এবং নতুন করে ছাত্রীর নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর কথায়, 'ছাত্রীর পড়াশোনায় যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তা আমরা নিশ্চিত করছি।'

ছাত্রীর মা বাসন্তী মাজি পাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মেয়ের ধর্মীয় বিশ্বাসে বারবার আঘাত করা হয়েছে। বিষয়টি শুধুমাত্র স্কুলের নিয়মের প্রশ্ন নয়, ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতারও প্রশ্ন। এদিকে বৃহস্পতিবার ছাত্রীর বাড়িতে যান পাড়ার বাসিন্দা তথা রাজ্যের পূর্ত ও অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউরি। তিনি বলেন, 'কপালে তিলক কেটে বা গলায় তুলসির মালা পরে কেউ স্কুলে আসতেই পারেন। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস। যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত মিটে যাবে।'

ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলও। অন্যদিকে, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুস্মিতা ঘোষ অভিযোগ অস্বীকার না করলেও বলেন, 'স্কুলের একটি নিয়মশৃঙ্খলা রয়েছে, যা সকলকেই মানতে হয়। তবে এই ঘটনার আরও অনেক দিক রয়েছে, যা এক লাইনে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।' ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখন সকলের নজর শিক্ষা দপ্তরের তদন্ত রিপোর্ট এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe